Sunday, 20 September 2015
Saturday, 19 September 2015
সালাতে (নামাযে) হাত বাঁধা আর স্ব'শব্দে আমীন (উচ্চস্বরে) বলার হাদীসসমূহ

নামাজে দাড়িয়ে হাত কোথায় বাঁধবেন;
ক) সাহাল ইবন সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকদের নির্দেশ দেওয়া হতো যে, সালাতে প্রত্যেক ডান হাত বাম হাতের বাহুর উপর রাখবে (২/১০২ হাঃ ৭০৪ বুখারী)
খ) হুলব আ-ত্বঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বাম হাতের জোড়ের (কব্জির) উপরে ডান হাতের জোড় বুকের উপরে রাখতে দেখেছি (আহমদ, ১/৯০ তুহফাতুল আওয়াযী, ১/১০৯ ফিকহুস সুন্নাহ)
গ) তাউস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সলাতরত অবস্থায় ডান হাত বাম হাতের উপর স্থাপন করতে তা নিজের বুকের উপর বেঁধে রাখতেন (১/৪১১ হাঃ ৭৫৯ আবূ দাউদ)
ঘ) ওয়ায়েল ইবনে হোজর (রাৎ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে সলাত আদায় করলাম, তিনি বাম হাতের উপর ডান হাত সংযোগ করে স্বীয় বুকের উপর রাখলেন (তাঃ ৪৭৯ ইবনে খুযাইমাহ, হাঃ ২৭৫ বুলুগুল মারাম)
এই হাদীসটি ইমাম ইবনে খুযায়মাহ স্বীয় গ্রন্থে সহীহ সনদে রিওয়ায়েত করেছেন ৯২০ পৃঃ বুলুগুল মারাম)
অনুচ্ছেদঃ ১৫
তাকবীরে তাহরীমার পর বুকের নীচে কিন্তু নাভির উপরে বাঁ হাতের ওপর ডান হাত রাখবে; সিজদারত অবস্থায় হাত কাঁধ বরাবর মাটিতে রাখবে। (মুসলিম)
ঙ) হাদীস নং- ৭৯১
ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি নবী (সাঃ) কে দেখলেন, তিনি নামাযে প্রবেশ করার সময় দুই হাত তুললেন এবং তাকবীর বললেন। হাম্মামের বর্ণনায় আছে, তিনি দুই হাত কান পর্যন্ত উঠালেন; অতপর চাদরে ঢেকে নিলেন এবং ডান হাত বাঁ হাতের ওপর রাখলেন। তিনি যখন রুকুতে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, উভয় হাত কাপড়ের ভিতর থেকে বের করলেন, অতপর তা উত্তোলণ করলেন, অতপর তাকবীর বলে রুকুতে গেলেন, তিনি যখন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলে উভয় হাত উপরে উঠালেন। তিনি যখন সিজদায় গেলেন, দুই হাতের তালুর মাঝখানে সিজদা করলেন।
চ) ইবন জুরাইজ থেকে তাঁর পিতার সুত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী (রাঃ)-কে সালাতে নাভীর উপরে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরে রাখতে দেখেছি (১/৪১০ হাঃ ৭৫৭ আবূ দাউদ)
ইমাম আবূ দাউদ (রাঃ) বলেন, সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে 'নাভীর উপরে' উপরে বর্ণিত আছে। আর আবূ মিজলায বলেছেন, "নাভীর নীচে"। আবূ হুরায়রা থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে, কিন্তু তা তেমন শক্তিশালী নয়। হাদীসটি "যঈফ"।
ছ) সলাতে নারী-পুরুষ উভয়েই বুকের উপর হাত বাঁধিকে। নারীরা বুকের উপরে আর পুরুষেরা নাভীর নীচে হাত বাঁধিবে এইরূপ পার্থক্যের কথা সহীহ হাদীসে নেই। নারী-পুরুষ ইভয়ের জন্য একই নির্দেশ (সূত্রে শাইখ আবদুস সত্তার {ত্রিশালী}
জ) কোন সহীহ হাদীসে নাভীর নীচে হাত বাঁধার কথা নেই। হানাফী মাযহাবের সুপ্রসিদ্ধ ফেকার কিতাব হিদায়া, ইউসুফী প্রেসের ছাপা, বাবে ছিফাতুস সলাত ১ম খন্ডের হাশিয়া ৮৬ পৃষ্ঠায় আছে।
অর্থাৎ সলাতে নাভীর নীচে হাত বাঁধিবার হাদীস "যঈফ" এবং উহার যুউফ বা দুর্বলতা সম্বন্ধে মুহাদ্দিসগণ সকলেই একমত। (সূত্রে শাইখ আবদুস সত্তার {ত্রিশালী}।
ঝ) নাভীর নীচে হাত বাঁধা সম্পর্কে মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ ও অন্যান্য হাদীস গন্থে চারজন সাহাবী ও দুজন তাবেঈ থেকে যে চারটি হাদীস ও দু'টি আছার বর্ণিত হয়েছে, সেগুলি সম্পর্কে মুহিদ্দিসীনের বক্তব্য হলো "লা-ইয়াসলুহু: ওয়া হি:দুম মিনহা-লীল ইসতিদ লা-লী" (যঈফ হওয়ার করণে) এগুলির একটিও দলিল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয় (১/৫৫৭-৫৫৮ মিরা'আতুল মাফাতীহ, ২/৮৯ তুহফাতুল আহওয়াবী)
ঞ) প্রচলিত সলাতে দাঁড়িয়ে নাভীর নীচে হাত বাঁধা হয়। এটা সহীহ হাদীসের বিপরীত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সব সময়ই ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর বা সিনার উপর হাত বাঁধতেন। এটাই সুন্নত (১/১০২ বুখারী "মূল", ১/১৭৩ মুসলিম "মূল", ১/১১০ আবূ দাউদ "মূল", ৬ পৃষ্ঠা মারাসিল "মূল"ম ১/৩৪-৩৫ তিরমিযী "মূল", ১/৫৯ ইবনে মাজাহ "মূল", ১/৭৫ মিশকাত "মূল", ১/২৩৩ ইবনু খুযায়মাহ "মূল", ১৬০ পৃঃ মুয়াত্তা মুহাম্মদ "মূল")।
ট) প্রচলিত সলাতে নাবী ও পুরুষের কিছু নিয়ম পার্থক্য দেখা যায়। কিন্তু কোন সহীহ হাদীসে এরূপ পার্থক্যের কথা বলা নেই। বরং পুরুষ ও নাবী নির্বিশেষে সলাতের পদ্ধতি একই রকম (২/৫২ হাঃ ৬০৩ বুখারী, মিশরী ছাড়া ১ম খন্ড ১৪৯ পৃঃ, সুত্রে মুফতী মোহাম্মাদ আবদুর রউফ)। সামান্য কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া।
(টিকাঃ ইমাম আবু হানিফার মতে তাকবীরে তাহরীমার সময় কান পর্যন্ত হাত উঠাতে হবে; ইমাম মালেক ও শাফেয়ীর মতে কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠাতে হবে। আবু হানিফার মতে, নাভির নীচে হাত বাঁধতে হবে, মালিক ও শাফেয়ীর মতে, বুকের নীচে কিন্তু নাভির ওপরে যে কোন স্থানে হাত বাঁধতে হবে। হাত উঠানো ও হাত বাঁধার ব্যাপারে ইমাম আহমেদে একমত হানাফীদের অনুরূপ এবং অপর মত মালেকী ও শাফেযীদের অনুরূপ।)
এবার নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন। কোনটি মানবেন? সহীহ হাদীস? না-কি অন্যকিছু? না-কি কারো মতবাদ?[http://www.somewhereinblog.net/blog/wwwdotmamundotcom/29694613]
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
Hifzur Rahman
ক) সাহাল ইবন সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকদের নির্দেশ দেওয়া হতো যে, সালাতে প্রত্যেক ডান হাত বাম হাতের বাহুর উপর রাখবে (২/১০২ হাঃ ৭০৪ বুখারী)
খ) হুলব আ-ত্বঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বাম হাতের জোড়ের (কব্জির) উপরে ডান হাতের জোড় বুকের উপরে রাখতে দেখেছি (আহমদ, ১/৯০ তুহফাতুল আওয়াযী, ১/১০৯ ফিকহুস সুন্নাহ)
গ) তাউস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সলাতরত অবস্থায় ডান হাত বাম হাতের উপর স্থাপন করতে তা নিজের বুকের উপর বেঁধে রাখতেন (১/৪১১ হাঃ ৭৫৯ আবূ দাউদ)
ঘ) ওয়ায়েল ইবনে হোজর (রাৎ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে সলাত আদায় করলাম, তিনি বাম হাতের উপর ডান হাত সংযোগ করে স্বীয় বুকের উপর রাখলেন (তাঃ ৪৭৯ ইবনে খুযাইমাহ, হাঃ ২৭৫ বুলুগুল মারাম)
এই হাদীসটি ইমাম ইবনে খুযায়মাহ স্বীয় গ্রন্থে সহীহ সনদে রিওয়ায়েত করেছেন ৯২০ পৃঃ বুলুগুল মারাম)
অনুচ্ছেদঃ ১৫
তাকবীরে তাহরীমার পর বুকের নীচে কিন্তু নাভির উপরে বাঁ হাতের ওপর ডান হাত রাখবে; সিজদারত অবস্থায় হাত কাঁধ বরাবর মাটিতে রাখবে। (মুসলিম)
ঙ) হাদীস নং- ৭৯১
ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি নবী (সাঃ) কে দেখলেন, তিনি নামাযে প্রবেশ করার সময় দুই হাত তুললেন এবং তাকবীর বললেন। হাম্মামের বর্ণনায় আছে, তিনি দুই হাত কান পর্যন্ত উঠালেন; অতপর চাদরে ঢেকে নিলেন এবং ডান হাত বাঁ হাতের ওপর রাখলেন। তিনি যখন রুকুতে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, উভয় হাত কাপড়ের ভিতর থেকে বের করলেন, অতপর তা উত্তোলণ করলেন, অতপর তাকবীর বলে রুকুতে গেলেন, তিনি যখন "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলে উভয় হাত উপরে উঠালেন। তিনি যখন সিজদায় গেলেন, দুই হাতের তালুর মাঝখানে সিজদা করলেন।
চ) ইবন জুরাইজ থেকে তাঁর পিতার সুত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী (রাঃ)-কে সালাতে নাভীর উপরে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরে রাখতে দেখেছি (১/৪১০ হাঃ ৭৫৭ আবূ দাউদ)
ইমাম আবূ দাউদ (রাঃ) বলেন, সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে 'নাভীর উপরে' উপরে বর্ণিত আছে। আর আবূ মিজলায বলেছেন, "নাভীর নীচে"। আবূ হুরায়রা থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে, কিন্তু তা তেমন শক্তিশালী নয়। হাদীসটি "যঈফ"।
ছ) সলাতে নারী-পুরুষ উভয়েই বুকের উপর হাত বাঁধিকে। নারীরা বুকের উপরে আর পুরুষেরা নাভীর নীচে হাত বাঁধিবে এইরূপ পার্থক্যের কথা সহীহ হাদীসে নেই। নারী-পুরুষ ইভয়ের জন্য একই নির্দেশ (সূত্রে শাইখ আবদুস সত্তার {ত্রিশালী}
জ) কোন সহীহ হাদীসে নাভীর নীচে হাত বাঁধার কথা নেই। হানাফী মাযহাবের সুপ্রসিদ্ধ ফেকার কিতাব হিদায়া, ইউসুফী প্রেসের ছাপা, বাবে ছিফাতুস সলাত ১ম খন্ডের হাশিয়া ৮৬ পৃষ্ঠায় আছে।
অর্থাৎ সলাতে নাভীর নীচে হাত বাঁধিবার হাদীস "যঈফ" এবং উহার যুউফ বা দুর্বলতা সম্বন্ধে মুহাদ্দিসগণ সকলেই একমত। (সূত্রে শাইখ আবদুস সত্তার {ত্রিশালী}।
ঝ) নাভীর নীচে হাত বাঁধা সম্পর্কে মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ ও অন্যান্য হাদীস গন্থে চারজন সাহাবী ও দুজন তাবেঈ থেকে যে চারটি হাদীস ও দু'টি আছার বর্ণিত হয়েছে, সেগুলি সম্পর্কে মুহিদ্দিসীনের বক্তব্য হলো "লা-ইয়াসলুহু: ওয়া হি:দুম মিনহা-লীল ইসতিদ লা-লী" (যঈফ হওয়ার করণে) এগুলির একটিও দলিল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয় (১/৫৫৭-৫৫৮ মিরা'আতুল মাফাতীহ, ২/৮৯ তুহফাতুল আহওয়াবী)
ঞ) প্রচলিত সলাতে দাঁড়িয়ে নাভীর নীচে হাত বাঁধা হয়। এটা সহীহ হাদীসের বিপরীত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সব সময়ই ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর বা সিনার উপর হাত বাঁধতেন। এটাই সুন্নত (১/১০২ বুখারী "মূল", ১/১৭৩ মুসলিম "মূল", ১/১১০ আবূ দাউদ "মূল", ৬ পৃষ্ঠা মারাসিল "মূল"ম ১/৩৪-৩৫ তিরমিযী "মূল", ১/৫৯ ইবনে মাজাহ "মূল", ১/৭৫ মিশকাত "মূল", ১/২৩৩ ইবনু খুযায়মাহ "মূল", ১৬০ পৃঃ মুয়াত্তা মুহাম্মদ "মূল")।
ট) প্রচলিত সলাতে নাবী ও পুরুষের কিছু নিয়ম পার্থক্য দেখা যায়। কিন্তু কোন সহীহ হাদীসে এরূপ পার্থক্যের কথা বলা নেই। বরং পুরুষ ও নাবী নির্বিশেষে সলাতের পদ্ধতি একই রকম (২/৫২ হাঃ ৬০৩ বুখারী, মিশরী ছাড়া ১ম খন্ড ১৪৯ পৃঃ, সুত্রে মুফতী মোহাম্মাদ আবদুর রউফ)। সামান্য কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া।
(টিকাঃ ইমাম আবু হানিফার মতে তাকবীরে তাহরীমার সময় কান পর্যন্ত হাত উঠাতে হবে; ইমাম মালেক ও শাফেয়ীর মতে কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠাতে হবে। আবু হানিফার মতে, নাভির নীচে হাত বাঁধতে হবে, মালিক ও শাফেয়ীর মতে, বুকের নীচে কিন্তু নাভির ওপরে যে কোন স্থানে হাত বাঁধতে হবে। হাত উঠানো ও হাত বাঁধার ব্যাপারে ইমাম আহমেদে একমত হানাফীদের অনুরূপ এবং অপর মত মালেকী ও শাফেযীদের অনুরূপ।)
এবার নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন। কোনটি মানবেন? সহীহ হাদীস? না-কি অন্যকিছু? না-কি কারো মতবাদ?[http://www.somewhereinblog.net/blog/wwwdotmamundotcom/29694613]
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
Hifzur Rahman
>সালাতে (নামাযে) স্ব'শব্দে আমীন (উচ্চস্বরে) বলার হাদীসসমূহ
<<<<
০১) বুখারি ১ম খন্ড ১০৮ পৃষ্ঠা
০২) মুসলিম শরীফ ১৭৬ পৃষ্ঠা
০৩) আবু দাউদ ১৩৪ পৃষ্ঠা
০৪) তিরমিজি ৫৭,৫৮ পৃষ্ঠা
০৫) নাসায়ী ১৪০ পৃষ্ঠা
০৬) ইবনে মাজাহ ৬২ পৃষ্ঠা
০৭) মুয়াত্তা মালেক ১০৮ পৃষ্ঠা
০৮) বায়হাকী ২য় খন্ড ৫৯ পৃষ্ঠা
০৯) দার কুৎনী ১২৭ পৃষ্ঠা
১০) মেশকাত ১ম খন্ড ৭৯,৮০ পৃষ্ঠা
১১) যাদুল মায়াদ ১ম খন্ড ১৩২ পৃষ্ঠা
১২) মাসনাদে ইমাম শাফী ২৩ পৃষ্ঠা
১৩) ইবনে আবি শায়বা ২৮ পৃষ্ঠা
১৪) ফাতহুল বারী ২য় খন্ড ২৬৭ পৃষ্ঠা
১৫) হিদায়া দিরায়াহ ১০৮ পৃষ্ঠা
১৬) আবকারুল মিনান ১৮৯ পৃষ্ঠা
১৭) ফাতহুল বায়ান ৩৪ পৃষ্ঠা
১৮) মুহাল্লা ২৬৩ পৃষ্ঠা
১৯) রাফউল ওজাজাহ ৩০০ পৃষ্ঠা
২০) তোহফাতুল আহয়াজি ১ম খন্ড ২০৮ পৃষ্ঠা
২১) তানভীরুল হায়ালেক ১০৮ পৃষ্ঠা
২২) মন্তাকা ৫৯ পৃষ্ঠা
২৩) নায়লুল আওতার ২য় খন্ড ২৪৪ পৃষ্ঠা
২৪) আহকাম ২০৭ পৃষ্ঠা
২৫) আততার গীব ২৩ পৃষ্ঠা
২৬) সবুলুস সালাম ২৪৩ পৃষ্ঠা
২৭) কানজুল ওম্মাল ৫৯ পৃষ্ঠা
২৮) জামেউল ফায়ায়েদ ৭৬ পৃষ্ঠা
২৯) তাল খিসুল হাবীর ৯০ পৃষ্ঠা
৩০) আউনুল মাবুদ ২৫২ পৃষ্ঠা
৩১) তায়সীরুল ওসুল ২১৭ পৃষ্ঠা
হানাফী মাযহাবের কেতাবগুলিতেও উচ্চস্বরে
আমীন
১) আইনুল হেদায়া ১ম খন্ড ৩৬৫ পৃষ্ঠা
২) নুরুল হেদায়া ৯৭ পৃষ্ঠা
৩) ফতহুল কাদীর ৩৬৩ পৃষ্ঠা
৪) মাদারেজুন্নবুয়াত ৪০১ পৃষ্ঠা
৫) তানবীরুল আইনাইন ৪১ পৃষ্ঠা
৬) গুনিয়াতুত তালেবীন ১১ পৃষ্ঠা
৭) তাহকীকুল কালাম ১০ পৃষ্ঠা
৮) তালিকুল মুমাজ্জাদ ১০৫ পৃষ্ঠা (ভারতের প্রখ্যাত
মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হাই লাক্ষ্ণৌভী
হানাফী )
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর উস্তাদ আতা ইবনে
আবি রাবাহ (রহঃ) বলেন -
"আমি মসজিদুল হারাম কাবা শরীফে কমপক্ষে দুশ'
জন সাহাবীকে আর বিভিন্ন দিনে হাজার হাজার
সাহাবীকে এমন অবস্থায় পেয়েছি যে, যখন ইমাম
"অলাদ্দৌলীন" বলতেন তখন আমি তাদের আমীনের
প্রতিধ্বনি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত শুনতাম" [বায়হাকী ২য়
খন্ড ৫৯ পৃষ্ঠা, আইনী ৬ষ্ঠ খন্ড ৪৮ পৃষ্ঠা, ফাতহুল
বারী ২য় খন্ড ২৬৭ পৃষ্ঠা]
০৪) তিরমিজি ৫৭,৫৮ পৃষ্ঠা
০৫) নাসায়ী ১৪০ পৃষ্ঠা
০৬) ইবনে মাজাহ ৬২ পৃষ্ঠা
০৭) মুয়াত্তা মালেক ১০৮ পৃষ্ঠা
০৮) বায়হাকী ২য় খন্ড ৫৯ পৃষ্ঠা
০৯) দার কুৎনী ১২৭ পৃষ্ঠা
১০) মেশকাত ১ম খন্ড ৭৯,৮০ পৃষ্ঠা
১১) যাদুল মায়াদ ১ম খন্ড ১৩২ পৃষ্ঠা
১২) মাসনাদে ইমাম শাফী ২৩ পৃষ্ঠা
১৩) ইবনে আবি শায়বা ২৮ পৃষ্ঠা
১৪) ফাতহুল বারী ২য় খন্ড ২৬৭ পৃষ্ঠা
১৫) হিদায়া দিরায়াহ ১০৮ পৃষ্ঠা
১৬) আবকারুল মিনান ১৮৯ পৃষ্ঠা
১৭) ফাতহুল বায়ান ৩৪ পৃষ্ঠা
১৮) মুহাল্লা ২৬৩ পৃষ্ঠা
১৯) রাফউল ওজাজাহ ৩০০ পৃষ্ঠা
২০) তোহফাতুল আহয়াজি ১ম খন্ড ২০৮ পৃষ্ঠা
২১) তানভীরুল হায়ালেক ১০৮ পৃষ্ঠা
২২) মন্তাকা ৫৯ পৃষ্ঠা
২৩) নায়লুল আওতার ২য় খন্ড ২৪৪ পৃষ্ঠা
২৪) আহকাম ২০৭ পৃষ্ঠা
২৫) আততার গীব ২৩ পৃষ্ঠা
২৬) সবুলুস সালাম ২৪৩ পৃষ্ঠা
২৭) কানজুল ওম্মাল ৫৯ পৃষ্ঠা
২৮) জামেউল ফায়ায়েদ ৭৬ পৃষ্ঠা
২৯) তাল খিসুল হাবীর ৯০ পৃষ্ঠা
৩০) আউনুল মাবুদ ২৫২ পৃষ্ঠা
৩১) তায়সীরুল ওসুল ২১৭ পৃষ্ঠা
হানাফী মাযহাবের কেতাবগুলিতেও উচ্চস্বরে
আমীন
১) আইনুল হেদায়া ১ম খন্ড ৩৬৫ পৃষ্ঠা
২) নুরুল হেদায়া ৯৭ পৃষ্ঠা
৩) ফতহুল কাদীর ৩৬৩ পৃষ্ঠা
৪) মাদারেজুন্নবুয়াত ৪০১ পৃষ্ঠা
৫) তানবীরুল আইনাইন ৪১ পৃষ্ঠা
৬) গুনিয়াতুত তালেবীন ১১ পৃষ্ঠা
৭) তাহকীকুল কালাম ১০ পৃষ্ঠা
৮) তালিকুল মুমাজ্জাদ ১০৫ পৃষ্ঠা (ভারতের প্রখ্যাত
মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হাই লাক্ষ্ণৌভী
হানাফী )
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর উস্তাদ আতা ইবনে
আবি রাবাহ (রহঃ) বলেন -
"আমি মসজিদুল হারাম কাবা শরীফে কমপক্ষে দুশ'
জন সাহাবীকে আর বিভিন্ন দিনে হাজার হাজার
সাহাবীকে এমন অবস্থায় পেয়েছি যে, যখন ইমাম
"অলাদ্দৌলীন" বলতেন তখন আমি তাদের আমীনের
প্রতিধ্বনি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত শুনতাম" [বায়হাকী ২য়
খন্ড ৫৯ পৃষ্ঠা, আইনী ৬ষ্ঠ খন্ড ৪৮ পৃষ্ঠা, ফাতহুল
বারী ২য় খন্ড ২৬৭ পৃষ্ঠা]
Saturday, 12 September 2015
কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেগুলো নামাজ পড়া অবস্থায় অবহেলা করা হয়
কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেগুলো নামাজ পড়া অবস্থায় অবহেলা করা হয়
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু
একজন মুসলমানের উপর নামাজ পড়া অবশ্য কর্তব্য। নামাজ পড়তে যেয়ে আমরা না জানার কারণে কিংবা জেনেও না মানার কারণে কতগুলো বিষয় অবহেলা করি আর যার কারণে আমাদের নামাজগুলো যথার্থরুপে সম্পাদন করা হয় না। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হচ্ছেঃ
*নামাজে একাগ্রতা ও নিষ্ঠা পরিত্যাগ করা
*নামাজে অনর্থক নড়াচড়া করা
*ইচ্ছাকৃত ভাবে নামাজে ইমামের পূর্বে আগে বেড়ে কাজ করা
বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা একজন মুসলিমের জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। তাই বিষয়গুলো সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল।
নামাজে একাগ্রতা ও নিষ্ঠা পরিত্যাগ করা
সবচেয়ে বড় চুরি হলো নামাজে চুরি করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“সবচেয়ে জঘন্য চোর হল যে তার নামাজে চুরি করে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিভাবে নামাজে চুরি করে? তিনি বললেন, রুকু ও সিজদা পূরা করে না” (আহমাদ ৫/৩১০; সহীহ আল-জামে ৯৯৭)
নামাজে প্রশান্তি ও নিষ্ঠা পরিত্যাগ এবং রুকু সিজদায় পিঠ সোজা না করা এবং রুকু থেকে উঠার পর সোজা হয়ে না দাড়ান এবং দুই সিজদার মধ্যে সোজা হয়ে না বসা, অধিকাংশ মুসল্লীর মাঝে এ সব ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়। কোন মসজিদই এ ধরণের মুসল্লী থেকে মুক্ত নয়। নামাযে একাগ্রতা ও নিষ্ঠা থাকা নামাজের একটি রুকন, যা ব্যতিরেকে নামাজ সঠিক হয় না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেনঃ
“কারো নামাজ ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না যতক্ষণ না রুকু এবং সিজদায় তার পিঠ সোজা করবে।” (আবু দাউদ ১/৫৩৩; সহীহ আল-জামে ৭২২৪)
এতে কোনই সন্দেহ নেই যে এ কাজটি নিন্দনীয় এবং যে এ কাজ করবে সে তিরস্কার এবং শাস্তি পাবার উপযুক্ত।
আবু আব্দুল্লাহ আল-আশয়াবী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাথীদের নিয়ে নামাজ পড়লেন, অতপর তাদের সাথে বসে পড়লেন। এরই মাঝে একজন লোক মসজিদে প্রবেশ করল এবং নামাজ পড়তে শুরু করল। সে রুকু সিজদায় ঠোকর মারছিল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ “তোমরা কি একে দেখছ না? নামাজে ঠোকর মারছে, যেমন কাক রক্তে ঠোকর মারে। যে ব্যক্তি রুকু সিজদায় ঠোকর মারে সে হল ঐ ক্ষুধার্ত ব্যক্তির মত যে শুধু একটি দু’টি মাত্র খেজুর খায়, এতে তার কি হবে?” (ইবনে খুজায়মা ১/৩৩২; দেখুন শায়খ আলবানী প্রণীত সিফাতু সালাতিন নবী, পৃ: ১৩১)
“হযরত যায়েদ ইবনে ওহাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত হুজাইফা (রা) এক ব্যক্তিকে দেখলেন সে রুকু সিজদা পূরা করছিল না। তিনি বললেন, তুমি নামাজই পড়নি। যদি তুমি এ অবস্থায় মারা যেতে তাহলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনের আওতায় তোমার মৃত্যু হতো না।” (বুখারী, ফতহুল বারী ২/২৭৪)
নামাজে একাগ্রতা ও নিষ্ঠাহীন ব্যক্তি যখন থেকেই এ বিধানের কথা জানতে পারবে তখন থেকেই তার উপর ফরজ হবে নামাজে এ অভ্যাস চালু করা এবং পূর্বে যা ঘটে গেছে তার জন্য আল্লাহর নিকট তওবা করা। তাকে পূর্বের সব নামাজ পড়তে হবে না। নিম্নে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীস তারা বেলায় প্রযোজ্য হবে না। “তুমি ফিরে গিয়ে আবার নামাজ পড়, কেননা তুমি নামাজই পড়নি”। (বুখারী, দেখুন ফতহুল বারী ২/২৭৪)
নামাজে অনর্থক নড়াচড়া করা
এ এক মারাত্মক ব্যাধি, এথেকে বিরাট সংখ্যক মুসল্লী নিরাপদ নয়। কেননা তারা আল্লাহর এ বাণীকে বাস্তবায়ন করে নাঃ
“তোমরা আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সাথে দাঁড়াও” (বাকারাঃ ২৩৮)
তারা আল্লাহর এ বাণীও বুঝে নাঃ
“মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাজে বিনয়ী, নম্র”।(সূরা মুমিনুনঃ ১-২)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামাজে কঙ্কর ঠিক করে নেওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ “তুমি নামাজে তা স্পর্শ করবে না। যদি একান্তাই প্রয়োজন পড়ে তা হলে মাত্র একবার ঠিক করতে পার।” (আবু দাউদ ১/৫৮১, সহীহ আল-জামে ৭৪৫২, মূল হাদীসটি মুসলিম শরীফে রয়েছে, মুয়াইকীব (রা) কর্তৃক বণিত)
উলামাগণ উল্লেখ করেছেন যে বিনা প্রয়োজনে একাধারে অনেক নড়াচড়া করলে নামাজই বাতিল হয়ে যাবে। তাহলে ওদের কি অবস্থা হবে যারা আল্লাহর সামানে নামাজে দাড়িয়ে ঘড়ি দেখে, কাপড় ঠিক করে, নাকের ভিতর আঙ্গুল ঢোকায়, ডানে-বামে এবং আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকায়। তাদের কি এ ভয় নেই যে, তার দৃষ্টি শক্তি কেড়ে নেওয়া হতে পারে এবং শয়তান তার নামাজকে ছিনতাই করে নিয়ে যেতে পারে?
ইচ্ছাকৃত ভাবে নামাজে ইমামের পূর্বে আগে বেড়ে কাজ করা
তাড়াহুড়া করা মানুষের প্রকৃতিগত অভ্যাস।
“মানুষতো তাড়াহুড়া প্রিয়” (বনী ইসরাঈলঃ ১১)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “ধীরস্থিরতা আল্লাহর পক্ষ হতে আর তাড়াহুড়া হল শয়তানের পক্ষ হতে।” (বায়হাকী, সুনানুল কুবরা ১০/১০৪; সিলসিলা ১৭৯৫)
অনেক মুসল্লীকেই দেখা যায় ইমামের আগেই রুকু সিজদায় যাচ্ছে, এমনকি সালাম ফিরাবার ক্ষেত্রেও। এটি যদিও অনেকের নিকট তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, কিন্তুরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ ব্যাপাড়ে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারিত হয়েছেঃ
“যে ব্যক্তি ইমামের পূর্বেই মাথা উঠায় তার কি এ ভয় করে না যে, আল্লাহ তাআলা তারা মাথাকে গাধার মাথায় রুপান্তরিত করে দিবেন।” (মুসলিম ১/৩২০-৩২১)
যখন মুসল্লীদেরকে ধীরস্থিরভাবে নামাজের জন্য আসতে বলা হয়েছে সেক্ষেত্রে তাদেরকে নামাজে কেমন ধীরস্থির থাকতে হবে তা সহজেই অনুমেয়।
অনেকেই আবার ইমামের আগে শুরু হবার আশঙ্কায় দেরীতে শুরু করে। ফকীহ্গণ এব্যাপারে সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ইমাম সাহেব তাকবীর শেষ করলেই মুক্তাদী তার কাজ শুরু করবে। যখন ইমাম আল্লাহু আকবার বলে শেষ করবে তখনই মুক্তাদী তার কাজ শুরু করবে। এর আগেও করবে না বা পরেও করবে না। এভাবেই সঠিকভাবে কার্যসম্পাদন করতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহবারা ছিলেন খুবই যত্নবান। তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগে বেড়ে কোন কাজ করতেন না। তাদের একজন বারা’ ইবনে আযেব (রা) বলেন, তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে নামাজ পড়তেন। যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকু হতে সিজদায় যেতেন তখন তিনি মাটিতে তাঁর কপাল না লাগান পর্যন্ত আমাদের কেউ পিঠ নীচু করত না। এরপর আমরা সবাই সিজদায় যেতাম। (মুসলিমঃ ৪৭৪)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীর দিয়ে নামাজ আরম্ভ করতেন তখন সব কিছুই ধীরস্থিরভাবে করতেন। তিনি তাঁর পিছনের মুসল্লীদের সতর্ক করে দিতেন। তিনি বলতেনঃ “হে লোক সকল! আমি কেবল নামাজ শুরু করেছি, সুতরাং তোমরা রুকু ও সিজদায় আমাকে আগে বেড়ে কিছু করো না।” (বায়হাকী ২/৯৩, ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে এ হাদীসটি হাসান বলে উল্লেখ করা হয়েছে)
ইনশাল্লাহ আমরা বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করবো এবং আমাদের নামাজে বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে খেয়াল করব।
মহান আল্লাহ তাআলার শান্তি ও রহমত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর এবং তাঁর পরিবারের উপর, তাঁর সাহাবীদের উপর এবং তাদেরকে যারা অনুসরণ করে তাদের উপর বর্ষিত হোক। আমীন।
(মূল লেখাটি বর্তমান সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলেমে দীন, ইসলামী চিন্তাবিদ ও লেখক শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ কর্তৃক রচিত এক তথ্যনির্ভর বই থেকে নেওয়া হয়েছে। যে বইটি বাংলায় ‘যে হারাম তুচ্ছ নয়’ শিরোনামে অনুদিত হয়েছে)
বইটির প্রকাশনায়ঃ
দাওয়াহ এন্ড এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট
ওয়ার্ল্ড এসেম্বলী অব মুসলিম ইয়ুথ (ওয়ামী)
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু।
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু
একজন মুসলমানের উপর নামাজ পড়া অবশ্য কর্তব্য। নামাজ পড়তে যেয়ে আমরা না জানার কারণে কিংবা জেনেও না মানার কারণে কতগুলো বিষয় অবহেলা করি আর যার কারণে আমাদের নামাজগুলো যথার্থরুপে সম্পাদন করা হয় না। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হচ্ছেঃ
*নামাজে একাগ্রতা ও নিষ্ঠা পরিত্যাগ করা
*নামাজে অনর্থক নড়াচড়া করা
*ইচ্ছাকৃত ভাবে নামাজে ইমামের পূর্বে আগে বেড়ে কাজ করা
বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা একজন মুসলিমের জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। তাই বিষয়গুলো সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল।
নামাজে একাগ্রতা ও নিষ্ঠা পরিত্যাগ করা
সবচেয়ে বড় চুরি হলো নামাজে চুরি করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“সবচেয়ে জঘন্য চোর হল যে তার নামাজে চুরি করে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিভাবে নামাজে চুরি করে? তিনি বললেন, রুকু ও সিজদা পূরা করে না” (আহমাদ ৫/৩১০; সহীহ আল-জামে ৯৯৭)
নামাজে প্রশান্তি ও নিষ্ঠা পরিত্যাগ এবং রুকু সিজদায় পিঠ সোজা না করা এবং রুকু থেকে উঠার পর সোজা হয়ে না দাড়ান এবং দুই সিজদার মধ্যে সোজা হয়ে না বসা, অধিকাংশ মুসল্লীর মাঝে এ সব ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়। কোন মসজিদই এ ধরণের মুসল্লী থেকে মুক্ত নয়। নামাযে একাগ্রতা ও নিষ্ঠা থাকা নামাজের একটি রুকন, যা ব্যতিরেকে নামাজ সঠিক হয় না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেনঃ
“কারো নামাজ ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না যতক্ষণ না রুকু এবং সিজদায় তার পিঠ সোজা করবে।” (আবু দাউদ ১/৫৩৩; সহীহ আল-জামে ৭২২৪)
এতে কোনই সন্দেহ নেই যে এ কাজটি নিন্দনীয় এবং যে এ কাজ করবে সে তিরস্কার এবং শাস্তি পাবার উপযুক্ত।
আবু আব্দুল্লাহ আল-আশয়াবী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাথীদের নিয়ে নামাজ পড়লেন, অতপর তাদের সাথে বসে পড়লেন। এরই মাঝে একজন লোক মসজিদে প্রবেশ করল এবং নামাজ পড়তে শুরু করল। সে রুকু সিজদায় ঠোকর মারছিল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ “তোমরা কি একে দেখছ না? নামাজে ঠোকর মারছে, যেমন কাক রক্তে ঠোকর মারে। যে ব্যক্তি রুকু সিজদায় ঠোকর মারে সে হল ঐ ক্ষুধার্ত ব্যক্তির মত যে শুধু একটি দু’টি মাত্র খেজুর খায়, এতে তার কি হবে?” (ইবনে খুজায়মা ১/৩৩২; দেখুন শায়খ আলবানী প্রণীত সিফাতু সালাতিন নবী, পৃ: ১৩১)
“হযরত যায়েদ ইবনে ওহাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত হুজাইফা (রা) এক ব্যক্তিকে দেখলেন সে রুকু সিজদা পূরা করছিল না। তিনি বললেন, তুমি নামাজই পড়নি। যদি তুমি এ অবস্থায় মারা যেতে তাহলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনের আওতায় তোমার মৃত্যু হতো না।” (বুখারী, ফতহুল বারী ২/২৭৪)
নামাজে একাগ্রতা ও নিষ্ঠাহীন ব্যক্তি যখন থেকেই এ বিধানের কথা জানতে পারবে তখন থেকেই তার উপর ফরজ হবে নামাজে এ অভ্যাস চালু করা এবং পূর্বে যা ঘটে গেছে তার জন্য আল্লাহর নিকট তওবা করা। তাকে পূর্বের সব নামাজ পড়তে হবে না। নিম্নে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীস তারা বেলায় প্রযোজ্য হবে না। “তুমি ফিরে গিয়ে আবার নামাজ পড়, কেননা তুমি নামাজই পড়নি”। (বুখারী, দেখুন ফতহুল বারী ২/২৭৪)
নামাজে অনর্থক নড়াচড়া করা
এ এক মারাত্মক ব্যাধি, এথেকে বিরাট সংখ্যক মুসল্লী নিরাপদ নয়। কেননা তারা আল্লাহর এ বাণীকে বাস্তবায়ন করে নাঃ
“তোমরা আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সাথে দাঁড়াও” (বাকারাঃ ২৩৮)
তারা আল্লাহর এ বাণীও বুঝে নাঃ
“মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাজে বিনয়ী, নম্র”।(সূরা মুমিনুনঃ ১-২)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামাজে কঙ্কর ঠিক করে নেওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ “তুমি নামাজে তা স্পর্শ করবে না। যদি একান্তাই প্রয়োজন পড়ে তা হলে মাত্র একবার ঠিক করতে পার।” (আবু দাউদ ১/৫৮১, সহীহ আল-জামে ৭৪৫২, মূল হাদীসটি মুসলিম শরীফে রয়েছে, মুয়াইকীব (রা) কর্তৃক বণিত)
উলামাগণ উল্লেখ করেছেন যে বিনা প্রয়োজনে একাধারে অনেক নড়াচড়া করলে নামাজই বাতিল হয়ে যাবে। তাহলে ওদের কি অবস্থা হবে যারা আল্লাহর সামানে নামাজে দাড়িয়ে ঘড়ি দেখে, কাপড় ঠিক করে, নাকের ভিতর আঙ্গুল ঢোকায়, ডানে-বামে এবং আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকায়। তাদের কি এ ভয় নেই যে, তার দৃষ্টি শক্তি কেড়ে নেওয়া হতে পারে এবং শয়তান তার নামাজকে ছিনতাই করে নিয়ে যেতে পারে?
ইচ্ছাকৃত ভাবে নামাজে ইমামের পূর্বে আগে বেড়ে কাজ করা
তাড়াহুড়া করা মানুষের প্রকৃতিগত অভ্যাস।
“মানুষতো তাড়াহুড়া প্রিয়” (বনী ইসরাঈলঃ ১১)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “ধীরস্থিরতা আল্লাহর পক্ষ হতে আর তাড়াহুড়া হল শয়তানের পক্ষ হতে।” (বায়হাকী, সুনানুল কুবরা ১০/১০৪; সিলসিলা ১৭৯৫)
অনেক মুসল্লীকেই দেখা যায় ইমামের আগেই রুকু সিজদায় যাচ্ছে, এমনকি সালাম ফিরাবার ক্ষেত্রেও। এটি যদিও অনেকের নিকট তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, কিন্তুরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ ব্যাপাড়ে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারিত হয়েছেঃ
“যে ব্যক্তি ইমামের পূর্বেই মাথা উঠায় তার কি এ ভয় করে না যে, আল্লাহ তাআলা তারা মাথাকে গাধার মাথায় রুপান্তরিত করে দিবেন।” (মুসলিম ১/৩২০-৩২১)
যখন মুসল্লীদেরকে ধীরস্থিরভাবে নামাজের জন্য আসতে বলা হয়েছে সেক্ষেত্রে তাদেরকে নামাজে কেমন ধীরস্থির থাকতে হবে তা সহজেই অনুমেয়।
অনেকেই আবার ইমামের আগে শুরু হবার আশঙ্কায় দেরীতে শুরু করে। ফকীহ্গণ এব্যাপারে সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ইমাম সাহেব তাকবীর শেষ করলেই মুক্তাদী তার কাজ শুরু করবে। যখন ইমাম আল্লাহু আকবার বলে শেষ করবে তখনই মুক্তাদী তার কাজ শুরু করবে। এর আগেও করবে না বা পরেও করবে না। এভাবেই সঠিকভাবে কার্যসম্পাদন করতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহবারা ছিলেন খুবই যত্নবান। তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগে বেড়ে কোন কাজ করতেন না। তাদের একজন বারা’ ইবনে আযেব (রা) বলেন, তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে নামাজ পড়তেন। যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকু হতে সিজদায় যেতেন তখন তিনি মাটিতে তাঁর কপাল না লাগান পর্যন্ত আমাদের কেউ পিঠ নীচু করত না। এরপর আমরা সবাই সিজদায় যেতাম। (মুসলিমঃ ৪৭৪)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীর দিয়ে নামাজ আরম্ভ করতেন তখন সব কিছুই ধীরস্থিরভাবে করতেন। তিনি তাঁর পিছনের মুসল্লীদের সতর্ক করে দিতেন। তিনি বলতেনঃ “হে লোক সকল! আমি কেবল নামাজ শুরু করেছি, সুতরাং তোমরা রুকু ও সিজদায় আমাকে আগে বেড়ে কিছু করো না।” (বায়হাকী ২/৯৩, ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে এ হাদীসটি হাসান বলে উল্লেখ করা হয়েছে)
ইনশাল্লাহ আমরা বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করবো এবং আমাদের নামাজে বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে খেয়াল করব।
মহান আল্লাহ তাআলার শান্তি ও রহমত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর এবং তাঁর পরিবারের উপর, তাঁর সাহাবীদের উপর এবং তাদেরকে যারা অনুসরণ করে তাদের উপর বর্ষিত হোক। আমীন।
(মূল লেখাটি বর্তমান সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলেমে দীন, ইসলামী চিন্তাবিদ ও লেখক শায়খ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ কর্তৃক রচিত এক তথ্যনির্ভর বই থেকে নেওয়া হয়েছে। যে বইটি বাংলায় ‘যে হারাম তুচ্ছ নয়’ শিরোনামে অনুদিত হয়েছে)
বইটির প্রকাশনায়ঃ
দাওয়াহ এন্ড এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট
ওয়ার্ল্ড এসেম্বলী অব মুসলিম ইয়ুথ (ওয়ামী)
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু।
Saturday, 5 September 2015
সাহু সিজদা করার কারণ সমূহ কি কি?
(২৭১) সাহু সিজদা করার কারণ সমূহ কি কি?
সাহু সিজদা সংবিধিবদ্ধ করার পিছনে রহস্য হল এই যে, এটা নামাযের মধ্যে যে ত্রুটি হয় তার পূর্ণতা দান করে।
সাহু সিজদা সংবিধিবদ্ধ করার পিছনে রহস্য হল এই যে, এটা নামাযের মধ্যে যে ত্রুটি হয় তার পূর্ণতা দান করে।
তিনটি কারণে নামাযে সাহু সিজদা দিতে হয়ঃ
১) নামায বৃদ্ধি হওয়া। যেমন, কোন রুকূ বা সিজদা বা বসা ইত্যাদি বৃদ্ধি হওয়া।
২) হরাস হওয়া। কোন রুকন বা ওয়াজিব কম হওয়া।
৩) সন্দেহ হওয়া। কত রাকাত পড়েছে তিন না চার এব্যাপারে সংশয় হওয়া।
প্রথমতঃ ছালাতে বৃদ্ধি হওয়া:
মুছল্লী যদি নামাযের অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে বৃদ্ধি করে
যেমনঃ দাঁড়ানো, বসা, রুকূ‘, সিজদা ইত্যাদি- যেমন দু‘বার করে রুকূ করা, তিন
বার সিজদা করা, অথবা যোহর পাঁচ রাকাত আদায় করা। তবে তার ছালাত বাতিল বা
ভঙ্গ হয়ে যাবে। কেননা সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের বিপরীত আমল
করেছে। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, مَنْ عَمِلَ عَمَلًا
لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ “যে ব্যক্তি এমন আমল করবে, যার
পক্ষে আমাদের নির্দেশনা নেই, তবে উহা প্রত্যাখ্যাত।”
কিন্তু যদি
ভুলবশতঃ তা করে এবং ঐভাবেই ছালাত শেষ করে দেয়ার পর স্মরণ হয় যে, ছালাতে
বৃদ্ধি হয়ে গেছে, তবে শুধুমাত্র সাহু সিজদা করবে। তার ছালাতও বিশুদ্ধ হয়ে
যাবে। কিন্তু ছালাতরত অবস্থায় যদি উক্ত বৃদ্ধি স্মরণ হয়- যেমন চার রাকাআত
শেষ করে পাঁচ রাকাআতের জন্য দাঁড়িয়ে গেছে- তবে সে ফিরে আসবে এবং শেষে
সিজদায়ে সাহু করবে।
উদাহরণ: জনৈক ব্যক্তি যোহরের ছালাত পাঁচ রাকাআত
আদায় করে নিয়েছে। কিন্তু শেষ তাশাহুদে বসার সময় এবৃদ্ধির কথা তার স্মরণ হল,
তাহলে সে তাশাহুদ পূর্ণ করবে এবং সালাম ফেরাবে। তারপর সাহু সিজদা করবে এবং
সালাম ফিরাবে। আর যদি সালাম ফেরানোর পর তা স্মরণ হয়, তবে সাহু সিজদা করবে
এবং সালাম ফিরাবে।
আর যদি পঞ্চম রাকাআত চলা অবস্থায় স্মরণ হয় তবে
তখনই বসে পড়বে এবং তাশাহুদ পড়ে সালাম ফেরাবে। তারপর সিজদায়ে সাহু করে আবার
সালাম ফেরাবে।
দলীল:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ صَلَّى
النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الظُّهْرَ خَمْسًا فَقَالُوا
أَزِيدَ فِي الصَّلَاةِ؟ قَالَ: وَمَا ذَاكَ؟ قَالُوا: صَلَّيْتَ خَمْسًا،
فسجد سجدتين بعد ما سلم. وفي رواية: فَثَنَى رِجْلَيْهِ وَسَجَدَ
سَجْدَتَيْنِ ثم سلم
আবদুল্লাহ্ বিন মাসঊদ (রা:) কর্তৃক বর্ণিত।
তিনি বলেন, একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যোহরের নামায পাঁচ
রাক্আত পড়লেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হল, নামায কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি
বললেন, কিভাবে? তাঁরা বললেন, আপনি আজ পাঁচ রাকাআত পড়েছেন। তখন তিনি দু‘টি
সিজদা করলেন। অন্য রেওয়ায়াতে এসেছে, তখন তিনি পা গুটিয়ে ক্বিবলামুখি হলেন,
দু‘টি সিজদা করলেন অত:পর সালাম ফেরালেন।
সালাত পূর্ণ হওয়ার আগেই সালাম ফেরানো:
নামায পূর্ণ হওয়ার আগেই সালাম ফেরানো ছালাতে বৃদ্ধি করার অন্তর্গত। কেননা
ছালাতরত অবস্থায় সে সালামকে বৃদ্ধি করেছে। একাজ যদি ইচ্ছাকৃত করে তবে ছালাত
বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি ভুলক্রমে হয়, কিন্তু অনেক পরে তার এ ভুলের কথা মনে
পড়ল তবে নামায পুনরায় ফিরিয়ে পড়বে। আর যদি একটু পরেই (যেমন দু/এক মিনিট)
তবে সে অবশিষ্ট ছালাত পূর্ণ করবে এবং সালাম ফিরাবে। অতঃপর সাহু সিজদা করে
সালাম ফিরাবে।
দলীল:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِي اللَّه
عَنْه أّنّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى بِهم
الظُّهْرَ أو العصر فسَلَّمَ من رَكْعَتَيْنِ فَخَرَجَ سَرَعَانُ من أبواب
الْمَسْجِدِ يقولون: قَصُرَتِ الصَّلاَةُ وَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى
اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى خَشَبَةٍ الْمَسْجِدِ فاتكأَ عَلَيْهَا
كأنه غضبانَ، فقام رجل فَقَالَ يَا رسول الله: أَنَسِيتَ أَمْ قَصُرَتْ
الصَّلاَةُ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَمْ
أَنْسَ وَلَمْ تَقْصُرْ، فقال الرجل: بَلي نَسِيتَ فقال النَّبِيُّ صَلَّى
اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ للصحابة: أَحقٌّ ما يقول؟ قَالُوا: نعم، فتقدم
النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّى ما بقي من صلاته،
ثم سلم ثم سجد سجدتين ثم سلم
আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি
বলেন, একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে নিয়ে যোহর অথবা
আছরের ছালাত আদায় করলেন। কিন্তু দু‘রাকাআত আদায় করেই সালাম ফিরিয়ে দিলেন।
কিছু লোক দ্রুত মসিজদ থেকে একথা বলতে বলতে বের হয়ে গেল যে, ছালাত সংক্ষিপ্ত
হয়ে গেছে। নবীজিও (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদের এক খুঁটির
কাছে গিয়ে তাতে হেলান দিয়ে বসে পড়লেন। মনে হচ্ছিল তিনি যেন রাগন্বিত। জনৈক
ব্যক্তি তাঁর কাছে গিয়ে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি
নামায সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে? নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
বললেন, আমি তো ভুলিনি, আর নামাযও সংক্ষিপ্ত করা হয়নি। লোকটি বলল, বরং আপনি
ভুলেই গিয়েছেন। (কারণ আপনি দু‘রাকাআত ছালাত আদায় করেছেন।) নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, একি সত্য
বলছে? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তখন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার
দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং অবশিষ্ট দু‘রাকাআত আদায় করে তাশাহুদ পড়ে সালাম ফিরলেন।
তারপর দু‘টি সিজদা করলেন অতঃপর সালাম ফেরালেন।
দ্বিতীয়ত: ছালাতে হরাস হওয়া:
ক) রুকন হরাস হওয়া:
মুছল্লী যদি কোন রুকন কম করে ফেলে- উক্ত রুকন যদি তাকবীরে তাহরিমা (নামায
শুরু করার তাকবীর) হয়, তবে তার ছালাতই হবে না। চাই উহা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে
দিক বা ভুলক্রমে ছেড়ে দিক। কেননা তার ছালাতই তো শুরু হয়নি।
আর উক্ত রুকন যদি তাকবীরে তাহরিমা ব্যতীত অন্য কিছু হয় আর তা ইচ্ছাকৃত হয় তবে তার ছালাত বাতিল বা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
কিন্তু যদি অনিচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে কোন রুকন ছুটে যায়- যেমন প্রথম রাকাআতে
কোন রুকন ছুটে গেল, এখন যদি দ্বিতীয় রাকাআতে সেই ছুটে যাওয়া রুকনের নিকট
পৌঁছে যায়- তবে এঅবস্থায় আগের রাকাআত বাতিল হয়ে যাবে এবং এটাকে প্রথম
রাকাআত গণ্য করবে এবং বাকী অংশ পূরা করে সাহু সিজদা দিবে।
কিন্তু
যদি দ্বিতীয় রাকাআতে ছুটে যাওয়া সেই রুকনে না পৌঁছে, তবে ছুটে যাওয়া রুকনটি
আগে আদায় করবে তারপর বাকী অংশগুলো আদায় করবে এবং সাহু সিজদা দিবে।
উদাহরণ: জনৈক মুছল্লী প্রথম রাকাআতের দ্বিতীয় সিজদাটি ভুলে গেল। যখন সেকথা
স্মরণ হল, তখন সে দ্বিতীয় রাকাআতের দু‘সিজদার মধ্যবর্তি স্থানে বসেছে।
এঅবস্থায় আগের রাকাতটি বাতিল হয়ে যাবে এবং এটাকে প্রথম রাকাত গণ্য করে
অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করে ছালাত শেষে সাহু সিজদা করবে।
আর
একটি উদাহরণ: জনৈক ব্যক্তি প্রথম রাকাআতে একটি মাত্র সিজদা করেছে। তারপর
দ্বিতীয় সিজদা না করেই দাঁড়িয়ে পড়েছে। অতঃপর দ্বিতীয় রাকাতে রুকূ করার পর
সেই ভুলের কথা স্মরণ হয়েছে, তবে সে বসে পড়বে এবং সেই ছুটে যাওয়া সিজদা দিবে
এবং সেখান থেকে ছালাতের বাকী অংশ পূর্ণ করে সালাম ফিরাবে। তারপর সাহু
সিজদা করে সালাম ফিরাবে।
খ) কোন ওয়াজিব হরাস হওয়া:
মুছল্লী
যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ওয়াজিব পরিত্যাগ করে তবে তার ছালাত বাতিল হয়ে যাবে।
আর যদি ভুলক্রমে হয় আর উক্ত স্থান ছেড়ে যাওয়ার আগেই যদি স্মরণ হয়ে যায় তবে
তা আদায় করবে এতে কোন দোষ নেই- সাহু সিজদা দিতে হবে না। কিন্তু যদি উক্ত
ওয়াজিব ছেড়ে পরবর্তী রুকন শুরু করার আগেই স্মরণ হয়ে যায় তবে ফিরে গিয়ে সেই
ওয়াজিব আদায় করবে এবং শেষে সাহু সিজদা করবে। কিন্তু পরবর্তী রুকন শুরু করার
পর যদি স্মরণ হয় তবে উক্ত ছুটে যাওয়া ওয়াজিব রহিত হয়ে যাবে। অবশিষ্ট ছালাত
আদায় করে সালামের পূর্বে সাহু সিজদা করলেই ছালাত পূর্ণ হয়ে যাবে।
উদাহরণ: একজন মুছল্লী দ্বিতীয় রাকাতের দ্বিতীয় সিজদা থেকে উঠে না বসে তৃতীয়
রাকাতের জন্য দাঁড়াতে যাচ্ছে। এমন সময় স্মরণ হল নিজ ভুলের কথা। তখন সে বসে
পড়বে এবং তাশাহুদ পড়ে ছালাত পূর্ণ করবে। কোন সাহু সিজদা লাগবে না।
আর যদি কিছুটা দাঁড়ায় কিন্তু পরিপূর্ণরূপে দাঁড়ায়নি তবে সে বসে যাবে এবং
তাশাহুদ পড়বে ও ছালাত শেষে সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে। কিন্তু যদি
পূর্ণরূপে দাঁড়িয়ে পড়ে তবে আর বসবে না। তাশাহুদ রহিত হযে যাবে। ঐভাবেই
ছালাত পূর্ণ করবে এবং সলাম ফিরানোর পূর্বে সাহু সিজদা করবে।
দলীল:
عَنْ عَبْدِاللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ قَالَ صَلَّى بِنَا النَّبِيُّ
صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَامَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ
الْأُولَيَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ فَمَضَى فِي صَلَاتِهِ فَلَمَّا قَضَى
صَلَاتَهُ انْتَظَرَ النَّاسُ تَسْلِيمَهُ فَكَبَّرَ وَسَجَدَ قَبْلَ أَنْ
يُسَلِّمَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ ثُمَّ رَفَعَ
رَأْسَهُ وَسَلَّمَ
আবদুল্লাহ্ বিন বুহাইনাহ্ (রা:) থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেন, একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নিয়ে
(যোহর) ছালাত আদায় করলেন। কিন্তু দু‘রাকাত শেষে (তাশাহুদ না পড়েই) দাঁড়িয়ে
পড়লেন। তিনি নামায চালিয়ে যেতে থাকলেন। ছালাত শেষে মানুষ সালামের অপেক্ষা
করছে এমন সময় সালামের পূর্বে তিনি তাকবীর দিয়ে সিজদা করলেন, মাথা উঠিয়ে
আবার তাকবীর দিয়ে সিজদা করলেন, তারপর মাথা উঠিয়ে সালাম ফেরালেন।
তৃতীয়ত: সন্দেহ হওয়া: ছালাতের মধ্যে সন্দেহের দু‘টি অবস্থা: প্রথম অবস্থা:
সন্দেহযুক্ত দু‘টি বিষয়ের মধ্যে যেটির প্রাধান্য পাবে সে অনুযায়ী কাজ করবে
এবং ছালাত পূর্ণ করে সালাম ফিরাবে। তারপর সাহু সিজদা করে সালাম ফিরাবে।
উদাহরণ: একজন লোক যোহরের ছালাত আদায় করছে। কিন্তু সন্দেহ হল এখন সে কি
দ্বিতীয় রাকাতে না তৃতীয় রাকাতে? এ সময় সে অনুমান করে স্থির করবে কোনটা
ঠিক। যদি অনুমান প্রাধান্য পায় যে এটা তৃতীয় রাকাত, তবে তা তৃতীয় রাকাত
গণ্য করে ছালাত পূর্ণ করবে এবং সালাম ফেরানোর পর সাহু সিজদা করবে।
দলীল: আবদুল্লাহ্ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
وَإِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ فَلْيَتَحَرَّ الصَّوَابَ
فَلْيُتِمَّ عَلَيْهِ ثُمَّ لِيُسَلِّمْ ثُمَّ يَسْجُدُ سَجْدَتَيْنِ
“তোমাদের কারো ছালাতে যদি সন্দেহ হয় তবে সঠিক সিদ্ধানে- উপনীত হওয়ার
চেষ্টা করবে এবং সে ভিত্তিতে ছালাত পূর্ণ করবে। তারপর সালাম ফিরিয়ে দু‘টি
সাহু সিজদা করবে।”
দ্বিতীয় অবস্থা: সন্দেহযুক্ত দু‘টি দিকের কোনটাই
প্রাধান্য পায় না। এ অবস্থায় নিশ্চিত দিকটির উপর ভিত্তি করবে। অর্থাৎ কম
সংখ্যাটি নির্ধারণ করে বাকী নামায পূর্ণ করবে। তারপর সালামের আগে সাহু
সিজদা করে শেষে সালাম ফিরাবে।
উদাহরণঃ জনৈক ব্যক্তি আছরের ছালাতে
সন্দেহ করল- তিন রাকাত পড়েছে না দু‘রাকাত। কিন্তু অনুমান করে কোনটাই তার
নিকট প্রাধান্য পেল না। এমতাবস্থায় সে তা দ্বিতীয় রাকাত ধরে প্রথম তাশাহুদ
পাঠ করবে। তারপর বাকী দু‘রাকাত নামায পূর্ণ করবে এবং শেষে সালাম ফিরানোর
পূর্বে সাহু সিজদা করবে। দলীল: আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী
(ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
إِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ
فِي صَلاتِهِ فَلَمْ يَدْرِ كَمْ صَلَّى ثَلاثًا أَمْ أَرْبَعًا
فَلْيَطْرَحِ الشَّكَّ وَلْيَبْنِ عَلَى مَا اسْتَيْقَنَ ثُمَّ يَسْجُدُ
سَجْدَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ فَإِنْ كَانَ صَلَّى خَمْسًا شَفَعْنَ
لَهُ صَلَاتَهُ وَإِنْ كَانَ صَلَّى إِتْمَامًا لِأَرْبَعٍ كَانَتَا
تَرْغِيمًا لِلشَّيْطَانِ
“তোমাদের কোন ব্যক্তি যদি ছালাতে সন্দেহ
করে যে, তিন রাকাত পড়েছে না চার রাকাত? তবে সে সন্দেহকে বর্জন করবে এবং
নিশ্চিতের উপর ভিত্তি করবে। তারপর সালাম ফেরানোর পূর্বে দু‘টি সিজদা করবে।
যদি পাঁচ রাকাত পড়ে থাকে তবে ছালাত বেজোড় থেকে জোড় হয়ে যাবে। আর যদি চার
রাকাতই পড়ে থাকে, তবে এসিজদা দু‘টি শয়তানকে অপমানের জন্য হবে।”
সারকথা: পূর্বেল্লেখিত আলোচনা থেকে বুঝা গেল যে, সিজদায়ে সাহু কখনো সালামের আগে কখনো সালামের পর করতে হয়।
সালামের পূর্বে সাহু সিজদা দু‘ক্ষেত্রে করতে হয়:
প্রথম: ছালাতে যদি কোন ওয়াজিব হরাস হয়। দ্বিতীয়: ছালাতে যদি সন্দেহ হয় এবং
দু‘টি দিকের কোনটিই প্রাধান্য না পায়, তবে সালামের পূর্বে সাহু সিজদা
করবে।
সালামের পর দু‘ক্ষেত্রে সাহু সিজদা করতে হয়:
প্রথম: যদি ছালাতে বৃদ্ধি হয়ে যায়।
দ্বিতীয়: যদি সন্দেহ হয় এবং যে কোন একটি দিক অনুমানের ভিত্তিতে প্রাধান্য লাভ করে, তবে সালামের পর সাহু সিজদা করবে।
ফুটনোটঃ
ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম
সালাত
শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ)
সালাত
শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ)
কতটুকু দূরত্বে গেলে মুসাফির নামায কসর করতে পারে?
- (৩১২) কতটুকু দূরত্বে গেলে মুসাফির নামায কসর করতে পারে? কসর না করেই কি দু’নামাযকে একত্রিত করা যায়?
কোন কোন বিদ্বানের মতে ৮৩ (তিরাশী) কিলোমিটার পরিমাণ দুরত্ব অতিক্রম করলে নামায কসর করবে। কোন কোন বিদ্বান বলেছেন, সমাজে প্রচলিত রীতিনীতিতে বা দেশীয় প্রথায় যাকে সফর বলা হয় তাতেই নামায কসর করবে। যদিও তা ৮০ কিলোমিটার না হয়। আর মানুষ যদি তাকে সফর না বলে, তবে তা সফর নয়; যদিও তা ১০০ কিঃ মিঃ হয়। এটাই শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রহঃ)এর মত। কেননা আল্লাহ্ তা’আলা নির্দিষ্টভাবে সফরের কোন দুরত্ব নির্ধারণ করেননি। অনুরূপভাবে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকেও সফরের দুরত্ব নির্ধারণের ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা পাওয়া যায় না। আনাস বিন মালেক (রাঃ) বলেন,
إِذَا خَرَجَ مَسِيرَةَ ثَلَاثَةِ أَمْيَالٍ أَوْ ثَلَاثَةِ فَرَاسِخَ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ
“নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি তিন মাইল বা ফারসাখ পরিমাণ দুরত্ব অতিক্রম করতেন, তবে নামায কসর করতেন ও দু’রাকাত আদায় করতেন।” এজন্য শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়ার মতই অধিক সঠিক।
প্রচলিত রীতিনীতিতে মতভেদ দেখা দিলে ইমামদের যে কোন একটি মত গ্রহণ করলেও কোন অসুবিধা নেই। কেননা ইমামগণ সবাই মুজতাহিদ বা গবেষক। এক্ষেত্রে কোন দোষ হবে না ইনশাআল্লাহ্। কিন্তু বর্তমানে মানুষের প্রচলিত রীতিনীতি যেহেতু সুনির্দিষ্ট তাই ইহা গ্রহণ করাই অধিক সঠিক।
আর নামায কসর করা বৈধ হলেই কি জমা (বা দু’নামায একত্রিত) করা বৈধ? জবাবে বলব, একত্রিত করণের বিষয়টি শুধু কসরের সাথে নির্দিষ্ট নয়; বরং তা প্রয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট। অতএব সফর বা গৃহে অবস্থান যে কোন সময় যদি মানুষ একত্রিত করণের প্রয়োজন অনুভব করে, একত্রিত করবে। অতএব বৃষ্টির কারণে যদি মসজিদে যেতে কষ্ট হয়, তবে দু’নামাযকে একত্রিত করবে। শীতকালে যদি কঠিন ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হয় এবং সে কারণে মসজিদে যাওয়া কষ্টকর হয় তবে দু’নামাযকে একত্রিত করবে। নিজের মূল্যবান সম্পদের ক্ষতি বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে তবে দু’নামাযকে একত্রিত করবে। এছাড়া এ ধরণের আরো কোন কঠিন সমস্যার সম্মুখিন হলে দু’নামাযকে একত্রিত করবে। ছহীহ্ মুসলিমে আবদুল্লাহ্ বিন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِالْمَدِينَةِ فِي غَيْرِ خَوْفٍ وَلَا مَطَرٍ
“নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদ্বীনায় বৃষ্টি বা ভয়-ভীতির কারণ ছাড়াই যোহর ও আছর একত্রে এবং মাগরিব ও এশা নামাযকে একত্রে আদায় করেছেন।” ইবনু আব্বাসকে প্রশ্ন করা হল, কেন তিনি এরূপ করেছেন? তিনি বললেন, তিনি উম্মতকে সংকটে ফেলতে চাননি।
অর্থাৎ এধরণের প্রয়োজনীয় মুহূর্তে দু’নামাযকে একত্রিত না করলে যে সংকট হওয়ার কথা তিনি তা চাননি।
এটাই হচ্ছে মূলনীতি। মানুষ যখনই দু’নামাযকে একত্রিত না করলে সমস্যা বা সংকটের সম্মুখিন হবে তখনই একত্রিত করণ তার জন্য বৈধ হয়ে যাবে। আর সমস্যা না হলে একত্রিত করবে না। কিন্তু যেহেতু সফর মানেই সমস্যা ও সংকট তাই মুসাফিরের জন্য দু’নামাযকে একত্রিত করা জায়েয। চাই তার সফর চলমান হোক বা কোন স্থানে অবস্থান করুক। তবে সফর চলমান থাকলে একত্রিত করা উত্তম। আর সফরে গিয়ে কোন গৃহে বা হোটেলে অবস্থান করলে একত্রিত না করাই উত্তম।
কিন্তু মুসাফির যদি এমন শহরে অবস্থান করে যেখানে নামায জামাআতের সাথে অনুষ্ঠিত হয়, তখন জামাআতের সাথে নামায আদায় করা ওয়াজিব। ঐ সময় নামায কসরও করবে না একত্রিতও করবে না। কিন্তু জামাআত ছুটে গেলে কসর করবে একত্রিত করবে না। অবশ্য একত্রিত করা জরূরী হয়ে পড়লে করতে পারে।
(৩১৫) সফর অবস্থায় কি কি বিষয়ে রুখসত বা অবকাশ রয়েছে?
সফর অবস্থায় চারটি ক্ষেত্রে রুখসত বা অবকাশ রয়েছেঃ
১) চার রাকাআত বিশিষ্ট নামায দু’রাকাআত আদায় করা।
২) রামাযানে রোযা ভঙ্গ করা। এবং পরবর্তীতে তার কাযা আদায় করা।
৩) তিনদিন তিনরাত মোজার উপর মাসেহ করা। প্রথমবার মাসেহ করার পর থেকে উক্ত সময়সীমা হিসাব করতে হবে।
৪) যোহর, মাগরিব ও এশার সুন্নাত আদায় করতে হবে না। তবে ফজরের সুন্নাত এবং অন্যান্য নফল নামায আদায় করা শরীয়ত সম্মত ও মুস্তাহাব।
অতএব মুসাফির সফর অবস্থায় নিম্নলিখিত নামাযগুলো আদায় করতে পারেঃ রাতের নফল (তাহাজ্জুদ), বিতর, ফজরের সুন্নাত, চাশত, তাহিয়্যাতুল ওযু, তাহিয়্যাতুল মসজিদ, সফর থেকে ফেরত এসে দু’রাকাত নামায। সুন্নাত হচ্ছে সফর থেকে ফেরত এসে গৃহে প্রবেশ করার পূর্বে মসজিদে গিয়ে দু’রাকাত ছালাত আদায় করা।
ফুটনোটঃ
ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম
সালাত
শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) - MD Abdullah Al Masum জাযাকাল্লাহ।
- Noor Uddin jajakallahu khairan
- Mahfuz Nayem আমার কর্মস্থলে থাকি এবং তা থেকে বাড়ী ১৩০ কিলো দুরে, মাসে ১বার বা ২বার বাড়ী যাই] এ অবস্থায় বাড়ী গেলে কি নামাজ কসর করা যাবে?
- Ahmed Hossain Bhai amader masjide saudi theke mehman aschilo abong uni Eshar waqt a nijei imamoti korechilo. To uni to jamat a imamoti kore o 2 rakat pore unar namaj sesh kore diyechilo. Pore musolli ra 4 rakat purno kore namaj sesh korlo. Akhane apni bollen Keo jamat Pele purota adai kora owajib but Ai khetre apni ki bolben bhai?
- Mohammad GM Assalamualikum..whn traveler ll be imam he shd be pry cosor salah and follwer shd pry remaing salah...zazzakallah kahier
- Ahmed Hossain But if the traveller says his prayer being a follower?

Write a reply...- Engr Mohsin Iqbal I am thinking
- Noor Uddin নিজ বাড়িতে কখনও মুসাফির হয়না। কর্মস্থলে ১৫দিনের কম নিশ্চিত হতে হবে
- Alamgir Hossain জাযাকাল্লাহু খাইরান
Assadkhan Khanassad আগে আমি আলেমদে নিকট জেনেছি ৪৫ মাইল দুরে গেলেই নামাজ কছচর হয়
semen (maniy) and urethral fluid (madhiy) : `A’ishah said, speaking about semen
Semen in the case of men is a thick, white liquid, and in the case of
women it is thin and yellow. (Translator’s note: the word maniy is used to
refer to the fluid secreted by either male or female at the time of orgasm).
Log-On:-full version
++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
`A’ishah said, speaking about semen: “I would simply rub it off the clothes of Allah’s Messenger (peace be upon him) and he would pray in them.” In another narration, she said: “I used to, if it was dry, scrape it off his clothes with my nail.”
Both of these hadîth are related in Sahîh Muslim. The first narration is also related in Sunan al-Tirmidhî, Sunan Abî Dâwûd, Sunan al-Nasâ’î, Sunan Ibn Mâjah, Sunan al-Bayhaqî, Sunan al-Dâraqutnî, and other sources.
Log-On:- in full
Log-On:-full version
++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
`A’ishah said, speaking about semen: “I would simply rub it off the clothes of Allah’s Messenger (peace be upon him) and he would pray in them.” In another narration, she said: “I used to, if it was dry, scrape it off his clothes with my nail.”
Both of these hadîth are related in Sahîh Muslim. The first narration is also related in Sunan al-Tirmidhî, Sunan Abî Dâwûd, Sunan al-Nasâ’î, Sunan Ibn Mâjah, Sunan al-Bayhaqî, Sunan al-Dâraqutnî, and other sources.
Log-On:- in full
Subscribe to:
Posts (Atom)










