Monday, 16 November 2015
সালাতে (নামাযে) রাফয়িল ইয়াদাইন (দুইহাত কাঁধ পর্যন্ত উঠানো) এবং সশব্দে (উচ্চস্বরে) আমীন বলা সংক্রান্ত
সালাতে (নামাযে) রাফয়িল ইয়াদাইন (দুইহাত কাঁধ পর্যন্ত উঠানো) এবং সশব্দে (উচ্চস্বরে) আমীন বলা সংক্রান্ত
মহান আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা আমাদেরকে সঠিক জ্ঞান দান করুন, যাতে
করে আমরা সহীহ হাদীসের আলোকে আমাদের আমলগুলো করতে পারি। নিম্নে কতিপয়
তথ্য ‘রাফয়িল ইয়াদাইন’ (কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠানো) ও সশব্দে
(উচ্চস্বরে)আমীন বলা সংক্রান্ত তথ্যাদি সহীহুল বুখারী ও মুসলিম এবং সুনান
কিতাব- আবু দাউদ, মালিকী মুয়াত্তা, ইবনু নাসাঈ ও ইবনু মাজাহ থেকে সংকলিত
হাদীসগুলো খণ্ড নম্বর, হাদীস নম্বর, পৃষ্ঠা নম্বর, এবং প্রকাশনীর নামসহ
উপস্থাপন করা হলঃ-(যাতে করে প্রমাণ খুজতে কষ্ট না হয়)
রাফয়িল ইয়াদাইন (দুইহাত কাঁধ পর্যন্ত উঠানো)-
০১ । আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রঃ)--- সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁর
পিতা থেকে বর্ণিত যে, নাবী (সাঃ) যখন সালাত শুরু করতেন, তখন উভয়হাত তাঁর
কাঁধ বরাবর উঠাতেন। আর রুকু’তে যাওয়ার জন্য তাকবীর বলতেন এবং যখন রুকু
থেকে মাথা উঠাতেন তখনও অনুরূপভাবে দু’হাত উঠাতেন এবং সামিআল্লাহু লিমান
হামিদা ও রাব্বানা অলাকাল হামদ্ বলতেন। কিন্তু সিজদার সময় এরূপ করতেন
না। সহীহ বুখারী, ২য় খণ্ড, হাদিস নং ৬৯৯, পৃষ্ঠা নং১০০, প্রকাশনী- ইসঃ
ফাউঃ বাংলাদেশ।
০২ । মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল(রঃ)---আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে
বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)কে দেখেছি, তিনি যখন সালাতের
জন্য দাঁড়াতেন তখন উভয়হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। এবং যখন তিনি রুকুর জন্য
তাকবীর বলতেন তখনও এরূপ করতেন। আবার যখন রুকু হতে মাথা উঠাতেন তখনও এরূপ
করতেন এবং সামিআল্লাহু লিমান হামিদা বলতেন। তবে সিজদার সময় এরূপ করতেন না।
সহীহ বুখারী, ২য় খণ্ড, হাদিস নং ৭০০, পৃষ্ঠা নং১০০, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ
বাংলাদেশ।
০৩ । ইসহাক ওয়াসিতি(রঃ)---আবু কিলাবা(রঃ)হতে বর্ণিত, তিনি মালিক ইবনু
হুওয়ায়রিশ(রাঃ)কে দেখেছেন তিনি যখন সালাত আদায় করতেন তখন তাকবীর বলতেন
এবং তাঁর দু’হাত উঠাতেন। আর রুকু করার ইচ্ছা করতেন তখনও তাঁর উভয়হাত
উঠাতেন। আবার, যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখনও তাঁর উভয়হাত উঠাতেন এবং
তিনি বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এরূপ করেছেন। সহীহ বুখারী, ২য়
খণ্ড, হাদিস নং ৭০১, পৃষ্ঠানং১০১, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
০৪ । ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী, সাঈদ ইবনু মানসুর, আবু বাকর
আবু শায়বা, আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র(রঃ)---সালিম
এর পিতা ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ
(সাঃ)কে দেখেছি তিনি যখন সালাত আরম্ভ করতেন তখন উভয়হাত উঠাতেন। এমনকি তা
একেবারে তাঁর উভয় কাঁধ বরাবর হয়ে যেত। আর রুকু করার পূর্বে এবং যখন রুকু
থেকে উঠতেন তখনও অনুরূপভাবে হাত উঠাতেন। কিন্তু উভয় সিজদাহ’র মাঝখানে
তিনি হাত উঠাতেন না। সহীহ মুসলিম, ২য় খণ্ড, হাদিস নং ৭৪৫, পৃষ্ঠা নং১৪১,
প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
০৫ । মুহাম্মদ ইবনু রাফী(রঃ)---- ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি
বলেন, রাসুলুল্লাহ(সাঃ) যখন সালাতেরজন্য দাঁড়াতেন তখন উভয়হাত উঠাতেন।
এমনকি তা তাঁর উভয় কাঁধ বরাবর হয়ে যেত। পরে যখন রুকু করার ইরাদা করতেন
তখনও অনুরূপ করতেন। আবার রুকু থেকে যখন উঠতেন তখনও অনুরূপ করতেন। কিন্তু
সিজদাহ থেকে যখন মাথা তুলতেন তখন এরূপ করতেন না। সহীহ মুসলিম, ২য় খণ্ড,
হাদিস নং ৭৪৬, পৃষ্ঠা নং১৪১, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
০৬ । ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া--- আবু কিলাবা(রঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি
মালিক ইবনু হুওয়ায়রিশ(রাঃ)কে দেখলেন, তিনি যখন সালাত আদায় করতে
দাঁড়ালেন তখন তাকবীর বলে উভয়হাত উঠালেন। আর যখন রুকু করার ইচ্ছা করলেন
তখন উভয়হাত উঠালেন।আর রুকু থেকে যখন মাথা উঠালেন তখনও আবার হাত উঠালেন।
এবং পরে বর্ণনা করলেন যে, রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এরূপ করেছেন। সহীহ মুসলিম,
২য়খণ্ড, হাদিস নং ৭৪৮, পৃষ্ঠা নং১৪২, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
০৭ । আবু কামিল জাহদারী(রঃ) মালিক ইবনুল হুওয়ায়রিশ(রাঃ)থেকে বর্ণিত,
রাসুলুল্লাহ (সাঃ)তাকবীর (তাকবীরে তাহরীমা) বলে উভয় কান বরাবর হাত
উঠাতেন। আর যখন রুকু করতেন তখনও কান বরাবর উভয়হাত উঠাতেন। আবার যখন রুকু
থেকে মাথা তুলে ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদা’ বলতেন তখনও অনুরূপ করতেন। সহীহ
মুসলিম, ২য় খণ্ড, হাদিস নং ৭৪৯, পৃষ্ঠা নং১৪২, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ
বাংলাদেশ।এছাড়াও ইসলামিক সেন্টার কর্তৃক প্রকাশিত সহীহ মুসলিম শরীফএর ২য়
খণ্ডের ৭৫৮,৭৫৯,৭৬১ ও ৭৬২ নং হাদীস দেখুন।
০৮ । আহ্মাদ ইবনু হাম্বল---সালিম থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি
বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ(সাঃ)কে সালাত আরম্ভ করার সময় তাঁর দু’হাত স্বীয়
কাঁধ পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি। অনুরূপভাবে রুকু করার সময় এবং রুকু থেকে মাথা
উঠানোর পরও তাঁকে হাত উঠাতে দেখেছি। কিন্তু তিনি দুই সিজদাহ’র মাঝখানে
হাত উঠাতেন না। এই হাদিসটি অনুরূপ-বুখারী,মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ ও ইবনু
মাজাহতে বর্ণিত আছে। সুনানু আবু দাউদ, ১ম খণ্ড, হাদিস নং ৭২১, পৃষ্ঠা
নং৩৯১, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
০৯ । ইবনুল মুসাফ্ফা আল হিমসী---আবদুল্লাহ ইবনু উমার(রাঃ) হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ(সাঃ) সালাতে দাঁড়ানোর সময় নিজের দুইহাত কান
পর্যন্ত উঠাতেন। তিনি তাকবীর বলে রুকুতে যেত তখন দুইহাত উপরে তুলতেন। এবং
রুকু হতে উঠার সময়ও স্বীয় উভয়হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে ‘সামিআল্লাহু
লিমান হামিদা’ বলতেন। তিনি দুই সিজদাহ’র মধ্যে হাত উঠাতেন না এবং প্রত্যেক
রুকুর জন্য তাকবীর বলার সময় তিনি হাত উঠাতেন এবং এরূপ সালাত শেষ করতেন।
সুনানু আবু দাউদ, ১ম খণ্ড, হাদিস নং ৭২২, পৃষ্ঠা নং৩৯২, প্রকাশনী-ইসঃ ফাউঃ
বাংলাদেশ।
১০ । উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার---আবু ওয়ায়েল ইবনু হুজর(রাঃ) হতে
বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর সাথে সালাত আদায় করি। তিনি
তাকবীর বলার সময় নিজের দুইহাত উঠাতেন, পরে তিনি তাঁর হাত কাপড়ের মধ্যে
প্রবেশ করিয়ে ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি যখন
রুকুর ইরাদা করেন, তখন স্বীয় হাত দু’খানা বের করে উপরে উঠাতেন। তিনি রুকু
হতে মাথা উঠানোর সময়ও দু’হাত উপরে উঠান। অতঃপর তিনি সিজদায় যান এবং
স্বীয় চেহারা দুইহাতের তালুর মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপন করেন। অতঃপর তিনি
সিজদাহ হতে মাথা উঠাবার সময়ও স্বীয় হাত দু’খানা উত্তোলন করেন। এভাবে
তিনি তাঁর সালাত শেষ করেন। রাবী মুহাম্মদ বলেন, এ সম্পর্কে আমি হাসান ইবনু
আবুল হাসানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এমনি ছিল রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর
সালাত(নামায) আদায়ের নিয়ম। যে ব্যক্তি এর অনুসরণ করেছে-সেতো করেছে এবং
যে ব্যক্তি ত্যাগ করেছে- সেতো তা ত্যাগ করেছে-মুসলিম। ইমাম আবু দাউদ(রঃ)
বলেন, হাম্মাম-ইবনু জাহাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু উক্ত বর্ণনায়
সিজদাহ হতে মাথা উঠানোর সময় হাত উঠানোর কথা উল্লেখ্য নেই। সুনানু আবু
দাউদ, ১ম খণ্ড, হাদিস নং ৭২৩, পৃষ্ঠা নং৩৯২-৩৯৩, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ
বাংলাদেশ। এ ছাড়াও আবু দাউদ এর পরবর্তী হাদীসগুলো যেমন- ৭২৬,৭৩০,৭৪৩,৭৪৪ ও
৭৪৫ নং হাদীসে বর্ণিত আছে।
১১ । আব্দুল্লাহ ইবনু উমার(রাঃ)---হতে বর্ণিত যে, নাবী (সাঃ) যখন সালাত
(নামায)আরম্ভ করার সময় উভয়হাত কাঁধ বরাবর তুলতেন এবং যখন রুকু হইতে
মাথা তুলতেন তখনও দুইহাত অনুরূপভাবে তুলতেন এবং বলতেন ‘সামিআল্লাহু লিমান
হামিদা রাব্বানা অলাকাল হামদ্। অবশ্য সিজদাহ’র সময় তিনি হাত উঠাতেন না।
মুয়াত্তা মালিক, ১ম খণ্ড, পরিচ্ছেদ-৪, রেওয়াত নং১৬, পৃষ্ঠা নং১২৮,
প্রকাশণী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
১২ । সলিম ইবনু আবদুল্লাহ(রঃ)হতে বর্ণিত,আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)যখন
নিচের দিকে ঝুঁকতেন ও মাথা উপরে তুলতেন তখন তাকবীর বলতেন। নাফি (রঃ)
বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু উমার সালাত (নামায) আরম্ভ করার সময় উভয়হাত কাঁধ
বরাবর তুলতেন। আর যখন রুকু হতে মাথা তুলতেন তখন দুইহাত কাঁধের একটু নিচ
পর্যন্ত তুলতেন।মুয়াত্তা মালিক, ১ম খণ্ড, পরিচ্ছেদ-৪, রেওয়াত নং১৬,
পৃষ্ঠা নং১২৮, প্রকাশণী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
১৩ । আলী ইবনু হুজর(রঃ)---মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস(রাঃ)থেকে বর্ণিত,তিনি
বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ(সাঃ) দেখেছি,তিনি যখন তাকবীর বলতেন এবং রুকু থেকে
মাথা তুলতেন তখন স্বীয় উভয়হাত উঠাতেন যা তাঁর কানের নিম্নভাগ (লতি)
পর্যন্ত পেীছত। সুনান আন নাসাঈ, ২য় খণ্ড, হাদিস নং১০২৭, পৃষ্ঠা নং৯৮,
প্রকাশণী- ইসঃ ফাউঃবাংলাদেশ।
১৪ । কুতায়বা(রঃ)---আবদুল্লাহ ইবনু উমার(রাঃ)থেকে বর্ণিত।তিনি বলেন,
আমি রাসুলুল্লাহ(সাঃ)কে দেখেছি, যখন তিনি সালাত আরম্ভ করতেন তখন স্বীয়
উভয়হাত তুলতেন কাঁধ পর্যন্ত। এ রকম হাত তুলতেন যখন তিনি রুকু করতেন এবং
রুকু থেকে মাথা উঠাতেন। সুনান আন নাসাঈ, ২য় খণ্ড, হাদিস নং১০২৮, পৃষ্ঠা
নং৯৯, প্রকাশণী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
১৫ । আলী ইবনু মুহাম্মদ, হিশাম ইবনু আম্মার ও আবু উমার
যারীর(রঃ)---ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ
(সাঃ)কে দেখেছি, তিনি যখন সালাত শুরু করতেন তখন তিনি তাঁর দু’হাত কাঁধ
পর্যন্তউঠাতেন এবং রুকুতে যেতেন ও যখন তিনি তাঁর মাথা রুকু থেকে উঠাতেন
(তখনও হাত উঠাতেন)। তবে, তিনি দুই সিজদাহ’র মাঝখানে হাত উঠাতেন না। সুনান
আন নাসাঈ, ২য় খণ্ড, হাদিস নং১০২৮, পৃষ্ঠা নং৯৯, প্রকাশণী- ইসঃ ফাউঃ
বাংলাদেশ।
১৬ । হুমায়ুদ ইবনু মাসআদা(রঃ)--- মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস(রাঃ)থেকে
বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)যখন তাকবীর বলতেন তখন তিনি তাঁর দু’হাত উভয়
কানের কাছাকাছি উঠাতেন। আর যখন তিনি রুকুতে যেতেন, তখন অনুরূপ করতেন এবং
যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন তখনও অনুরূপ করতেন। সুনান ইবনু মাজাহ, ১ম খণ্ড,
হাদিস নং৮৫৯, পৃষ্ঠা নং৩২৮, প্রকাশণী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
১৭ । মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার(রঃ)--- আবু হুমায়দ সায়ীদ(রাঃ) থেকে
বর্ণিত। তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর অন্যান্য দশ সাহাবীর একজন। তিনি
বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)এর সালাত সম্পর্কে অধিক অবহিত। তিনি যখন
সালাতে দাঁড়াতেন তখন সোজা হয়ে দাঁড়াতেন এবং তিনি তাঁর দু’হাত কাঁধ
বরাবর উঠাতেন, এরপর তিনি বলতেন আল্লাহু আকবর। আর যখন তিনি রুকু করার ইরাদা
করতেন তখন তিনি তাঁর দু’হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। এবং যখন তিনি বলতেন
‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদা’ তখন তিনি তাঁর দু’হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন এবং
সোজা হয়ে দাঁড়াতেন আর যখন তিনি দ্বিতীয় রাকাত থেকে দাঁড়াতেন তখন
তাকবীর বলতেন এবং তাঁর দু’হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন, যেমন তিনি সালাত শুরু
করার সময় করতেন। সুনান ইবনু মাজাহ, ১ম খণ্ড, হাদিস নং৮৬২, পৃষ্ঠা নং৩২৯,
প্রকাশণী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
১৮ । মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার(রঃ)---আব্বাস ইবনু সাহলসায়িদী(রঃ)
বর্ণিত, একদা আবু হুমায়দ, উসায়দ সায়িদী, সাহল ইবনু সাদ ও মুহাম্মদ ইবনু
মাস্লামা(রাঃ) একত্রিত হয়ে রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর সালাত সম্পর্কে
আলাপ-আলোচনা করছিলেন; তখন আবু হুমায়দ(রাঃ) বলেন- আমি তোমাদের চেয়ে
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। রাসুলুল্লাহ(সাঃ)সালাতে দাঁড়াতেন,
এরপর তিনি তাকবীর বলতেন এবং তাঁর উভয়হাত উঠাতেন। এরপর তিনি তাকবীর বলে
রুকুতে যাওয়ার সময় হাত উঠাতেন। এরপর তিনি দাঁড়াতেন এবং তাঁর দু’হাত
উঠাতেন এবং এমনভাবে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন যে, যাতে সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
যথাস্থানে এসে যেত। সুনান ইবনু মাজাহ, ১ম খণ্ড, হাদিস নং৮৬২, পৃষ্ঠা নং৩২৯,
প্রকাশণী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ। ইবনু মাজাহ’তে এ সংক্রান্ত আরো হাদীস
দেখুন- ৮৬৪ থেকে ৮৬৭ নং পর্যন্ত।
স্বশব্দে আমীণ (উচ্চস্বরে)বলাঃ-
০১। আতা (রঃ) বলেন, আমীন হল দু’আ। তিনি আরো বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু
যুবায়ের (রাঃ) ও তার পিছনের মুসল্লীগণ এমনভাবে আমীন বলতেন যে মসজিদে
গুমগুম আওয়াজ হতো। আবু হুরায়রা (রাঃ) ইমামকে ডেকে বলতেন, আমাকে আমীন
বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবেন না। নাফি(রঃ)বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) কখনই
আমীন বলা ছাড়তেন না এবং তিনি তাদের (আমীন বলার জন্য)উৎসাহিত করতেন। আমি
তাঁর কাছ থেকে এ সম্পর্কে হাদিস শ্তনেছি । সহীহ বুখারী,২য় খন্ড,
অনুচ্ছেদ-৫০২, পৃষ্ঠা নং ১২০ও১২১, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
০২ । আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রঃ)---- আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত
যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ইমাম যখন আমীন বলেন, তখন তোমরাও আমীন বলো।
কেননা, যারআমীন (বলা) ফিরিশতাদের আমীন (বলা) এক হয়, তার পূর্বের সব গুনাহ
মাফ করে দেয়া হয়। ইবনু শিহাব (রঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)ও আমীন
বলতেন। সহীহ বুখারী,২য় খন্ড, হাদিছ নং ৭৪৪, পৃষ্ঠা নং ১২১ প্রকাশনী- ইসঃ
ফাউঃ বাংলাদেশ।
০৩ । আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রঃ)---- আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত
যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ (সালাতে) আমীন বলে, আর
আসমানের ফিরিশ্তাগণ আমীন বলেন এবং উভয়ের আমীন একই সময়ে হলে তার
পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। সহীহ বুখারী,২য় খন্ড, হাদিছ নং
৭৪৫,পৃষ্ঠা নং ১২১ প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ। এ সংক্রান্ত আরো দেখুন
৭৪৬ নং হাদিস।
০৪ । ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রঃ) ---আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে
বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলছেন, যখন ইমাম আমীন বলবেন, তখন
তোমরাও আমীন বলবে। কেননা, যে, ব্যক্তি ফিরিশতাদের আমীন বলার সাথে একই সময়
আমীন বলবে। তার পূর্ববর্তী সমস্ত পাপ মোচন হয়ে যাবে। ইবনু শিহাব (রঃ)
বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)ও আমীন বলতেন। সহীহ মুসলিম,২য় খণ্ড,হাদিস নং ৭৯৮,
পৃষ্ঠা নং ১৬০ও ১৬১, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
০৫ । কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রঃ) ---- আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলছেন, ইমাম যখন গাইরিল মাগ----
ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন বলবেন, তার পিছনের ব্যক্তি মুক্তাদি আমীন বলবে এবং তার
বাক্য আকাশবাসীর (ফিরিশতা) বাক্যের অনুরূপ একই সময়ে উচ্চারিত হবে,তখন
তার পূর্ববর্তী সমূদয় পাপ মোচন হয়ে যাবে। সহীহ মুসলিম,২য় খণ্ড,হাদিস নং
৮০৩, পৃষ্ঠা নং ১৬২, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ। এ সংক্রান্ত আরো দেখুন
৭৯৯-৮০২ নং হাদিস।
০৬ । আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ইমাম
যখন আমীন বলে, তোমরাও তখন আমীন বলো। কেননা, যার আমীন বলা ফিরিশতাদের আমীন
বলার সাতে মিলেযাবে,তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। ইবনু শিহাব
(রঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)ও আমীন বলতেন। সহীহ মুসলিম,২য় খণ্ড,হাদিস নং
৮১০, পৃষ্ঠা নং ১৭৮, প্রকাশনী- ইসলামিক সেন্টার বাংলাদেশ। এ সংক্রান্ত
আরো দেখুন ৮১১-৮১৫ নং হাদিস।
০৭ । মুহাম্মদ ইবনু কাছীর (রঃ) ---ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন
পাঠ করার পর জোরে ‘আমীন বলতেন’। আবু দাউদ,২য় খণ্ড,হাদিস নং ৯৩২, পৃষ্ঠা
নং ৩৬, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
০৮ । মাখলাদ ইবনু খালিদ (রঃ)ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি
বলেন, একদা তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের পিছনে সালাত
আদায় করা কালে তিনি উচ্চস্বরে আমীন বলেন এবং (সালাত শেষে) ডান ও বাম
দিকে সালাম ফিরান এভাবে যে, – আমি তাঁর গন্ডদেষের সাদা অংশ পরিষ্কারভাবে
দেখি। আবু দাউদ,২য় খণ্ড,হাদিস নং ৯৩৩, পৃষ্ঠা নং ৩৬, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ
বাংলাদেশ।
০৯ । নাসর ইবনু আলী (রঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) এর চাচাত ভাই আবু
আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহে
ওয়াসাল্লাম “গায়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন” পাঠের পরে এমন
জোরে আমীন বলতেন যে প্রথম কাতারে তাঁরনিকটবর্তী লোকেরা তা শুনতে পেত। আবু
দাউদ,২য় খণ্ড,হাদিস নং ৯৩৪, পৃষ্ঠা নং ৩৭, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
১০ । আল কানাবী (রঃ) --- আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ
(সাঃ) বলেনঃ যখন ইমাম আমীন বলবে , তখন তোমরাও আমীন বলবে। কেননা যে
ব্যক্তির আমীন শব্দ ফিরিশতাদের আমীন শব্দের সাথে মিলবে ,তার পূর্ব জীবনের
সমস্ত গুনাহ মার্জিত হবে। ইবনু শিহাব (রঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)ও আমীন
বলতেন। আবু দাউদ,২য় খণ্ড,হাদিস নং ৯৩৬, পৃষ্ঠা নং ৩৮, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ
বাংলাদেশ।
১১ । আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলছেন, যখন
ইমাম আমীন বলেন, তখন তোমরাও আমীন বল।কেননা যার আমীন ফিরিশতাদের আমীন এর
সাথে একত্রে উচ্চারিত হয় তার পূর্বের গুনাহ মাফ করা হয়। মুয়াত্তা মালিক
১ম খণ্ড,পরিচ্ছেদ নং ১১, পৃষ্ঠা নং ১৪০, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
১২। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলছেন, যখন ইমাম
‘গায়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন’ বলবে তখন তোমরা আমীন বল।
যাহার বাক্য ফিরিশতাদের (আমীন)বাক্যের সাথে মিলে যাবে তার পূর্বের গুনাহ
মাফ করা হবে। মুয়াত্তা মালিক ১ম খণ্ড,পরিচ্ছেদ নং১১, রেওয়াত নং৪৫,পৃষ্ঠা
নং১৪০, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
১৩ । আমর ইবনু উসমান (রঃ)---আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি
বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যখন তিলাওয়াতকারী আমীন বলে , তখন তোমরাও
আমীন বলবে। কেননা, ফিরিশতাগনও আমীন বলে থাকেন। অতএব, যার আমীন বলা
ফিরিশতার আমীন বলার মত হবে,আল্লাহপাক তার পূর্বের পাপ মার্জনা করবেন।
সুনানু ইবনু নাসাই,২য় খণ্ড,হাদিস নং ৯২৮, পৃষ্ঠা নং ৫৬, প্রকাশনী- ইসঃ
ফাউঃ বাংলাদেশ।
১৪ । মুহাম্মদ ইবনু মানসুর(রঃ)---আবু হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নাবী (সাঃ)
থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,যখন তিলাওয়াতকারী (ইমাম) আমীন বলে, তখন তোমরাও
আমীন বলবে। কেননা, ফিরিশতাগনও আমীন বলে থাকেন। অতএব, যার আমীন বলা
ফিরিশতার আমীন বলার মত হবে,আল্লাহপাক তার পূর্বের পাপ মার্জনা করবেন।
সুনানু ইবনু নাসাই,২য় খণ্ড,হাদিস নং ৯২৯, পৃষ্ঠা নং ৫৬, প্রকাশনী- ইসঃ
ফাউঃ বাংলাদেশ।
১৫ । ইসমাইল ইবনু মাসুদ (রঃ) --- আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি
বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলছেন, যখনইমাম ‘গায়রিল মাগদুবি আলাইহিম
ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন’ বলবে তখন তোমরা আমীন বল। কেননা, ফিরিশতাগণ আমীন বলে
থাকেন। ইমামও আমীন বলে থাকেন, যার আমীন বলা ফিরিশতার আমীন বলার মত হবে,
আল্লাহপাক তার পূর্বের পাপ ক্ষমা করে দেবেন। সুনানু ইবনু নাসাই,২য়
খণ্ড,হাদিস নং ৯৩০, পৃষ্ঠা নং ৫৬, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
১৬ । আবু বকর ইবনু আবু শায়বা ও হিসাম ইবনু আম্মার (রঃ) --- আবু
হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলছেন, যখন ক্বারী (ইমাম)
আমীন বলে, তখন তোমরা আমীন বলবে। কেননা, ফিরিশতাগণ আমীন বলে থাকেন। আর
যারআমীন বলা, ফিরিশতাদের আমীন বলার সাথে মিলে যায় তার পূর্ববর্তী গুনাহ
মাফ করে দেয়া হয়। সুনানু ইবনু মাজাহ,১ম খণ্ড,হাদিস নং ৮৫১, পৃষ্ঠা নং
৩২৬, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
১৭ । বকর ইবনু খালফ ও জামীল ইবনু হাসান ও আহমদ ইবনু আমর ইবনু সারাহ
মিসরী ও হাশিম ইবনু কাশিম হাররানী ---আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত।
রাসুলুল্লাহ (সঃ)বলছেনঃ যখন ইমাম আমীন বলে, তখন তোমরা আমীন বলবে। কেননা,
যার আমীন ফিরিশতাদের আমীন বলার সাথে মিলে যায়, তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ
করে দেয়া হয়। সুনানু ইবনু মাজাহ,১ম খণ্ড,হাদিস নং ৮৫২, পৃষ্ঠা নং ৩২৬,
প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
১৮ । মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি
বলেন, লোকেরা আমীন বলা ছেড়ে দিয়েছে। অথচ, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যখন
গাইরিল---ওয়ালাদ্দোয়াল্লীন বলতেন; তখন তিনি বলতেন আমীন। এমনকি প্রথম
সারির লোকেরা তা শুনতে পেত এবং এতে মসজিদ গুঞ্জরিত হত। সুনানু ইবনু
মাজাহ,১ম খণ্ড,হাদিস নং ৮৫৩, পৃষ্ঠা নং ৩২৬, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ।
১৯ । ইসহাক ইবনু মানসুর (রঃ) ---আয়েশা (রাঃ) এর সূত্রে নাবী (সাঃ)
থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন। ইয়াহুদীরা তোমাদের কোন ব্যাপারে এত ঈর্ষান্বিত
হয় না,যতটা না তারা তোমাদের সালাত ও আমীনের উপর ঈর্ষান্বিত হয়। সুনানু
ইবনু মাজাহ,১ম খণ্ড,হাদিস নং ৮৫৬, পৃষ্ঠা নং ৩২৭, প্রকাশনী- ইসঃ ফাউঃ
বাংলাদেশ। এ সংক্রান্ত আরো দেখুন ৮৫৪,৮৫৫ ও ৮৫৭ নং হাদিস।[sourse-logonsgis]
নামাজে বুকের উপর হাত বাধা হল সুন্নাহ : নাভির নীচে হাত বাঁধা যঈফ , দলীল গ্রহণযোগ্য নয়
Ehsanul Karim published a note.
নামাজে বুকের উপর হাত বাধা হল সুন্নাহ
নামাজে
বুকের উপর হাত বাধা হল সুন্নাহ।নাভীর নিচে হাত বাধার হাদীস গুলো সব
জইফ।বুকের উপর হাত বাধা হল সুন্নাত তা হাদীস থেকে প্রমান করছি:বুকের উপর
হাত বাধা হাদীস বর্নিত হয়েছে যথাক্রমে ওয়াইল ইবনে হুজর,হালব আত-তায়ী এবং
তাউস থেকে।কিছু মানুষ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারে ওয়াইল ইবনে হুজরের বুকের উপর
হাত বাধা নিয়ে যা শুধু মুয়াম্মল থেকে বর্নিত হয়েছে এবং হালব আত-তায়ী যা
শুধু সুফিয়ান থেকে বর্নিত হয়েছে।কিন্তুু উভয় হাদীস একে অপরের সহায়ক
হওয়ায় হাসান হয়ে গেছে এবং মুরসাল হাদীস ততক্ষণ পযন্ত বাতিল হয়না যদি এর
শাহেদ থাকে।কিন্তুু আমরা দেখি এই ক্ষেত্রে যথেষ্ট শাহিদ আছে যা এই হাদীস
গুলো সহিহ হয়ে যায়।এবং কি মুহাদ্দিসরা হালবের হাদীসটা গ্রহণ করেছে।শেইখ
আবদুর রাহমান মুবারকপুরী(রাহ) এই হাদীসের সনদ সহিহ হওয়ার বিশুদ্ধত নিয়ে
বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তার বিক্ষ্যত বই "আবকার উল-মুনান ফি তানকীদ আতাহার
আস - সুন্নাহ "।আরো প্রমাণ দেখুন বুকে হাত বাধার:1)সাহিল বিন সাদ
বলেন,আমরা নির্দেশিত হয়েছি নামাজে ডান হাত বাম হাতের জেরার উপর রাখার(সহিহ
বুখারী 740 নং হাদীস)।যেরা অর্থ কনুই থেকে মধ্যমা আঙ্গুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত
দীর্ঘ হাত’ (গরীব উল-হাদীস 1/277,লিসান উল-আরব 8/93,তাজ উল-উরস
1/5217,কিতাবুল আইন 2/96,আল-মু'জাম আল-ওয়াসিয়াত 1/311,তাহদীব আল-লুগাহ
2/189,কিতাব আল-কুলিয়াত 1/730) এই হাদীসটা মারফু বর্ননাকারী হলেন আবু
হাজিম।এই কারণে হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি তার ফাতউল বারীর 2/124 পেইজে এবং
আল্লামা আইনী তার উমদাতুল কারীর 5/278 পেইজে বলেন,এই বর্ননা মারফু এবং এই
হাদীস হল প্রমাণ বুকে হাত বাধার কারণ যখন বাম হাতের বাহু এবং কনুইর উপর ডান
হাত রাখা হয় তখন হাত বুকের নিচে আসার সমর্থ হবেনা।প্রিয় পাঠক,এই পদ্ধতি
আপনি পরীক্ষা করেন আল্লাহর ইচ্ছায় হাত বুকে এসে যাবে।
2)ওয়াইল বিন হুজর থেকে বর্নিত,রাসুল(সা) বাম হাতের তালু,কব্জি এবং বাহুর উপর ডান হাত রাখতেন(সুনান আবু দাউদ 727 নং হাদীস,সুনান আল সুগরাহ লিল নাসাঈ 889,মুসনাদ আহমদ 22017,ইবনে হিব্বান 1860,ইবন খুজায়মাহ 480 নং হাদীস,সনদ সহিহ) এই হাদীস অনুসারে যদি ডান হাত দিয়ে পুরো অংশ ধরা হয় তাহলে হাত এমনিতে বুকের উপর উঠে যাবে।যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম নাসিরউদ্দিন আলবানী(রাহ:)বলেন,এই হাদীসের বর্ননাক্রিত অবস্থার ফলে হাত বুকে আসে(হিদায়াতুর
রুওয়াত 1/367)।এই হাদীসের সাথে ওয়াইলের অন্য হাদীস যেখানে বলা আছে হাত বুকে বাধার"এই থেকে পরিস্কার হয় যে হাত বুকে বাধতে হবে।
3)আলী(রাদি:)থেকে বর্নিত,রাসুল(সা) নাবীর উপরে(বুকের কাছে) হাত বাধতেন(আবু দাউদ 757)
4)তাউস থেকে বর্নিত,রাসুল(সা) বুকের উপর হাত বাধতেন(আবু দাউদ 759 নং হাদীস সনদ সহিহ)
5)ওয়াইল ইবন হুজর বর্ননা করেন অন্য সনদে,রাসুল(সা) বুকের উপর হাত বাধতেন(সুনান আল বায়হাকী 2166 সনদ জইফ)
6)ওয়াইল বিন হুজর থেকে আবার বর্নিত অন্য সনদে যা সুফীয়ান বর্ননা করেছে আসিম বিন কুলায়ব(সিমাকের পরিবর্তে)যে রাসুল(সা) হাত বুকে রাখতেন(বায়হাকী 2384)
7)ইবনে আব্বাস(রাদি)থেকে বর্নিত যে রাসুল(সা) যখন আল্লাহর আয়াত " "Fasallili Rabbika Wanhar"এর ব্যাখ্যায় বলেন,এর মানে হল বাম হাতের উপর ডান হাত বুকের উপর রাখা(সুনান বায়হাকী 2168,2387 সনদ জইফ)
8)একই রেয়াআতে আলী(রাদি:)থেকে ও হাদীসটা বর্নিত হয়েছে(সুনান বায়হাকী 2167 সনদ জইফ)
9)আনাস(রাদি:)থেকে ও একই রেয়াআতে বর্নিত হয়েছে(সুনান বায়হাকী 2386 সনদ জইফ)
10)ওয়াইল বিন হুজর থেকে বর্নিত অন্য হাদীসে বলা হয়েছে রাসুল(সা) বুকে হাত বাধত(মুজাম আল কাবীর 17969 সনদ জইফ)
11)ওয়াইল ইবন হুজর থেকে বর্নিত তিনি বলেন,আমি রাসুল(সা)কে দেখলাম,তিনি নামাজে প্রবেশ করলেন বললেন আল্লাহু আকবর,তারপর ডান বাহু তার বাহুর উপর রাখলেন(মুজাম আল কাবীরা 17901 হাদীস সহিহ)পুরো বাহু অন্য বাহুতে রাখলে হাত বুকের নিচে নামবেনা।
12)ওয়াইল থেকে বর্নিত রাসুল(সা) বুকের কাছে হাত বাধতেন(মুসনাদ আল বাযযার 4488 নং হাদীস)
13)আয়েশা(রাদি:) বর্নিত,রাসুল(সা)এর তিনটা সুন্নাত হল:1)ইফতারের জন্য দ্রুত করা 2)দেরিতে সেহেরি খাওয়া 3) বাম হাতের উপর ডান হাত রেখে বুকে হাত বাধা(আল আওসাত 1239)
এখন,উপরে বর্নিত কিছু হাদীস সনদের কারণে দুর্বল মনে হলেও সে গুলো হাসান লিগাহরিহ হয়না "জইফ+জইফ =হাসান।আল সিন্দী আল হানাফী তার হাশিয়াত ইবনে মাজাহাতে বলেন,এটা প্রমাণিত যে হাত বুকে বাধতে হবে অন্য কোথাও নয় এবং আলেমরা এই বিষয়ে একমত যে নাভীর নিচে হাত বাধা হাদীস জইফ।বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকিহ ইমাম ইসহাক বিন রাহয়াই(রাহ) সিনায় হাত বাধতেন অথবা সিনার একটু নিচে হাত বাধতেন(মা'সাইল পেইজ 222) অথচ এক মিথ্যাবাদী বলল ইসহাক বিন রাহয়াই(রাহ) নাকি নাভীর নিচের হাদীস কে শক্তিশালী বলেছে!! আমি বলি তাহলে ইসহাক বিন রাহুয়াই(রাহ)কেন সিনায় হাত বেঁধেছেন?কাদী লিয়াদ আল মালেকী বলেন,হাত বুকে বাধতে হবে(আল ইলাম পেইজ 15)। ওয়ায়েল বিন হুজ্র (রাঃ) বলেন,
صَلَّيْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى عَلَى صَدْرِهِ، رواه ابْنُ خُزَيْمَةَ وَصَحَّحَهُ ‘আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে ছালাত আদায় করলাম। এমতাবস্থায় দেখলাম যে, তিনি বাম হাতের উপরে ডান হাত স্বীয় বুকের উপর রাখলেন’। ( ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/৪৭৯; আবুদাঊদ হা/৭৫৫, ইবনু মাস‘ঊদ হ’তে; ঐ, হা/৭৫৯, ত্বাঊস বিন কায়সান হ’তে; ‘ছালাত’ অধ্যায়-২, ‘ছালাতে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা’ অনুচ্ছেদ-১২০।)
উপরোক্ত ছহীহ হাদীছ সমূহে ‘বুকের উপরে হাত বাঁধা’ সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য এসেছে। ইমাম শাওকানী বলেন, وَلاَ شَيْءَ فِي الْبَابِ أَصَحُّ مِنْ حَدِيْثِ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ الْمَذْكُوْرِ فِيْ صَحِيْحِ ابْنِ خُزَيْمَةَ- ‘হাত বাঁধা বিষয়ে ছহীহ ইবনু খুযায়মাতে ওয়ায়েল বিন হুজ্র (রাঃ) বর্ণিত হাদীছের চাইতে বিশুদ্ধতম কোন হাদীছ আর নেই’( নায়লুল আওত্বার ৩/২৫) উল্লেখ্য যে, বাম হাতের উপরে ডান হাত রাখা সম্পর্কে ১৮ জন ছাহাবী ও ২ জন তাবেঈ থেকে মোট ২০টি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। ইবনু আব্দিল বার্র বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে এর বিপরীত কিছুই বর্ণিত হয়নি এবং এটাই জমহূর ছাহাবা ও তাবেঈনের অনুসৃত পদ্ধতি( নায়লুল আওত্বার ৩/২২; ফিক্বহুস সুন্নাহ (কায়রো : ১৪১২/১৯৯২) ১/১০৯) নাভির নীচে হাত বাঁধা’ সম্পর্কে আহমাদ, আবুদাঊদ, মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ প্রভৃতি হাদীছ গ্রন্থে চারজন ছাহাবী ও দু’জন তাবেঈ থেকে যে চারটি হাদীছ ও দু’টি ‘আছার’ বর্ণিত হয়েছে, সেগুলি সম্পর্কে মুহাদ্দেছীনের বক্তব্য হ’ল-لاَ يَصْلُحُ وَاحِدٌ مِنْهَا لِلْاِسْتِدْلاَلِ ‘(যঈফ হওয়ার কারণে) এগুলির একটিও দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়’( মির‘আতুল মাফাতীহ দিল্লী: ৪র্থ সংস্করণ, ১৪১৫/১৯৯৫) ৩/৬৩; তুহফাতুল আহওয়াযী ২/৮৯ )
প্রকাশ থাকে যে, ছালাতে দাঁড়িয়ে মেয়েদের জন্য বুকে হাত ও পুরুষের জন্য নাভীর নীচে হাত বাঁধার যে রেওয়াজ চালু আছে, হাদীছে বা আছারে এর কোন প্রমাণ নেই( মির‘আত লাহোর ১ম সংস্করণ, ১৩৮০/১৯৬১) ১/৫৫৮; ঐ, ৩/৬৩; তুহফা ২/৮৩ ) এটাই স্বতঃসিদ্ধ যে, ছালাতের মধ্যকার ফরয ও সুন্নাত সমূহ মুসলিম নারী ও পুরুষ সকলে একই নিয়মে আদায় করবে( মির‘আত ৩/৫৯ পৃঃ; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১০৯; নায়লুল আওত্বার ৩/১৯) বুকে হাত বাঁধার তাৎপর্য : ত্বীবী বলেন, ‘হৃৎপিন্ডের উপরে বুকে হাত বাঁধার মধ্যে হুঁশিয়ারী রয়েছে এ বিষয়ে যে, বান্দা তার মহা পরাক্রান্ত মালিকের সম্মুখে দাঁড়িয়েছে হাতের উপর হাত রেখে মাথা নিচু করে পূর্ণ আদব ও আনুগত্য সহকারে, যা কোনভাবেই ক্ষুণ্ণ করা যাবে না’( মির‘আত ৩/৫৯ পৃঃ, হা/৮০৪-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)।
---------------------------------------------------
2)ওয়াইল বিন হুজর থেকে বর্নিত,রাসুল(সা) বাম হাতের তালু,কব্জি এবং বাহুর উপর ডান হাত রাখতেন(সুনান আবু দাউদ 727 নং হাদীস,সুনান আল সুগরাহ লিল নাসাঈ 889,মুসনাদ আহমদ 22017,ইবনে হিব্বান 1860,ইবন খুজায়মাহ 480 নং হাদীস,সনদ সহিহ) এই হাদীস অনুসারে যদি ডান হাত দিয়ে পুরো অংশ ধরা হয় তাহলে হাত এমনিতে বুকের উপর উঠে যাবে।যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম নাসিরউদ্দিন আলবানী(রাহ:)বলেন,এই হাদীসের বর্ননাক্রিত অবস্থার ফলে হাত বুকে আসে(হিদায়াতুর
রুওয়াত 1/367)।এই হাদীসের সাথে ওয়াইলের অন্য হাদীস যেখানে বলা আছে হাত বুকে বাধার"এই থেকে পরিস্কার হয় যে হাত বুকে বাধতে হবে।
3)আলী(রাদি:)থেকে বর্নিত,রাসুল(সা) নাবীর উপরে(বুকের কাছে) হাত বাধতেন(আবু দাউদ 757)
4)তাউস থেকে বর্নিত,রাসুল(সা) বুকের উপর হাত বাধতেন(আবু দাউদ 759 নং হাদীস সনদ সহিহ)
5)ওয়াইল ইবন হুজর বর্ননা করেন অন্য সনদে,রাসুল(সা) বুকের উপর হাত বাধতেন(সুনান আল বায়হাকী 2166 সনদ জইফ)
6)ওয়াইল বিন হুজর থেকে আবার বর্নিত অন্য সনদে যা সুফীয়ান বর্ননা করেছে আসিম বিন কুলায়ব(সিমাকের পরিবর্তে)যে রাসুল(সা) হাত বুকে রাখতেন(বায়হাকী 2384)
7)ইবনে আব্বাস(রাদি)থেকে বর্নিত যে রাসুল(সা) যখন আল্লাহর আয়াত " "Fasallili Rabbika Wanhar"এর ব্যাখ্যায় বলেন,এর মানে হল বাম হাতের উপর ডান হাত বুকের উপর রাখা(সুনান বায়হাকী 2168,2387 সনদ জইফ)
8)একই রেয়াআতে আলী(রাদি:)থেকে ও হাদীসটা বর্নিত হয়েছে(সুনান বায়হাকী 2167 সনদ জইফ)
9)আনাস(রাদি:)থেকে ও একই রেয়াআতে বর্নিত হয়েছে(সুনান বায়হাকী 2386 সনদ জইফ)
10)ওয়াইল বিন হুজর থেকে বর্নিত অন্য হাদীসে বলা হয়েছে রাসুল(সা) বুকে হাত বাধত(মুজাম আল কাবীর 17969 সনদ জইফ)
11)ওয়াইল ইবন হুজর থেকে বর্নিত তিনি বলেন,আমি রাসুল(সা)কে দেখলাম,তিনি নামাজে প্রবেশ করলেন বললেন আল্লাহু আকবর,তারপর ডান বাহু তার বাহুর উপর রাখলেন(মুজাম আল কাবীরা 17901 হাদীস সহিহ)পুরো বাহু অন্য বাহুতে রাখলে হাত বুকের নিচে নামবেনা।
12)ওয়াইল থেকে বর্নিত রাসুল(সা) বুকের কাছে হাত বাধতেন(মুসনাদ আল বাযযার 4488 নং হাদীস)
13)আয়েশা(রাদি:) বর্নিত,রাসুল(সা)এর তিনটা সুন্নাত হল:1)ইফতারের জন্য দ্রুত করা 2)দেরিতে সেহেরি খাওয়া 3) বাম হাতের উপর ডান হাত রেখে বুকে হাত বাধা(আল আওসাত 1239)
এখন,উপরে বর্নিত কিছু হাদীস সনদের কারণে দুর্বল মনে হলেও সে গুলো হাসান লিগাহরিহ হয়না "জইফ+জইফ =হাসান।আল সিন্দী আল হানাফী তার হাশিয়াত ইবনে মাজাহাতে বলেন,এটা প্রমাণিত যে হাত বুকে বাধতে হবে অন্য কোথাও নয় এবং আলেমরা এই বিষয়ে একমত যে নাভীর নিচে হাত বাধা হাদীস জইফ।বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকিহ ইমাম ইসহাক বিন রাহয়াই(রাহ) সিনায় হাত বাধতেন অথবা সিনার একটু নিচে হাত বাধতেন(মা'সাইল পেইজ 222) অথচ এক মিথ্যাবাদী বলল ইসহাক বিন রাহয়াই(রাহ) নাকি নাভীর নিচের হাদীস কে শক্তিশালী বলেছে!! আমি বলি তাহলে ইসহাক বিন রাহুয়াই(রাহ)কেন সিনায় হাত বেঁধেছেন?কাদী লিয়াদ আল মালেকী বলেন,হাত বুকে বাধতে হবে(আল ইলাম পেইজ 15)। ওয়ায়েল বিন হুজ্র (রাঃ) বলেন,
صَلَّيْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى عَلَى صَدْرِهِ، رواه ابْنُ خُزَيْمَةَ وَصَحَّحَهُ ‘আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে ছালাত আদায় করলাম। এমতাবস্থায় দেখলাম যে, তিনি বাম হাতের উপরে ডান হাত স্বীয় বুকের উপর রাখলেন’। ( ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/৪৭৯; আবুদাঊদ হা/৭৫৫, ইবনু মাস‘ঊদ হ’তে; ঐ, হা/৭৫৯, ত্বাঊস বিন কায়সান হ’তে; ‘ছালাত’ অধ্যায়-২, ‘ছালাতে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা’ অনুচ্ছেদ-১২০।)
উপরোক্ত ছহীহ হাদীছ সমূহে ‘বুকের উপরে হাত বাঁধা’ সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য এসেছে। ইমাম শাওকানী বলেন, وَلاَ شَيْءَ فِي الْبَابِ أَصَحُّ مِنْ حَدِيْثِ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ الْمَذْكُوْرِ فِيْ صَحِيْحِ ابْنِ خُزَيْمَةَ- ‘হাত বাঁধা বিষয়ে ছহীহ ইবনু খুযায়মাতে ওয়ায়েল বিন হুজ্র (রাঃ) বর্ণিত হাদীছের চাইতে বিশুদ্ধতম কোন হাদীছ আর নেই’( নায়লুল আওত্বার ৩/২৫) উল্লেখ্য যে, বাম হাতের উপরে ডান হাত রাখা সম্পর্কে ১৮ জন ছাহাবী ও ২ জন তাবেঈ থেকে মোট ২০টি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। ইবনু আব্দিল বার্র বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে এর বিপরীত কিছুই বর্ণিত হয়নি এবং এটাই জমহূর ছাহাবা ও তাবেঈনের অনুসৃত পদ্ধতি( নায়লুল আওত্বার ৩/২২; ফিক্বহুস সুন্নাহ (কায়রো : ১৪১২/১৯৯২) ১/১০৯) নাভির নীচে হাত বাঁধা’ সম্পর্কে আহমাদ, আবুদাঊদ, মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ প্রভৃতি হাদীছ গ্রন্থে চারজন ছাহাবী ও দু’জন তাবেঈ থেকে যে চারটি হাদীছ ও দু’টি ‘আছার’ বর্ণিত হয়েছে, সেগুলি সম্পর্কে মুহাদ্দেছীনের বক্তব্য হ’ল-لاَ يَصْلُحُ وَاحِدٌ مِنْهَا لِلْاِسْتِدْلاَلِ ‘(যঈফ হওয়ার কারণে) এগুলির একটিও দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়’( মির‘আতুল মাফাতীহ দিল্লী: ৪র্থ সংস্করণ, ১৪১৫/১৯৯৫) ৩/৬৩; তুহফাতুল আহওয়াযী ২/৮৯ )
প্রকাশ থাকে যে, ছালাতে দাঁড়িয়ে মেয়েদের জন্য বুকে হাত ও পুরুষের জন্য নাভীর নীচে হাত বাঁধার যে রেওয়াজ চালু আছে, হাদীছে বা আছারে এর কোন প্রমাণ নেই( মির‘আত লাহোর ১ম সংস্করণ, ১৩৮০/১৯৬১) ১/৫৫৮; ঐ, ৩/৬৩; তুহফা ২/৮৩ ) এটাই স্বতঃসিদ্ধ যে, ছালাতের মধ্যকার ফরয ও সুন্নাত সমূহ মুসলিম নারী ও পুরুষ সকলে একই নিয়মে আদায় করবে( মির‘আত ৩/৫৯ পৃঃ; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১০৯; নায়লুল আওত্বার ৩/১৯) বুকে হাত বাঁধার তাৎপর্য : ত্বীবী বলেন, ‘হৃৎপিন্ডের উপরে বুকে হাত বাঁধার মধ্যে হুঁশিয়ারী রয়েছে এ বিষয়ে যে, বান্দা তার মহা পরাক্রান্ত মালিকের সম্মুখে দাঁড়িয়েছে হাতের উপর হাত রেখে মাথা নিচু করে পূর্ণ আদব ও আনুগত্য সহকারে, যা কোনভাবেই ক্ষুণ্ণ করা যাবে না’( মির‘আত ৩/৫৯ পৃঃ, হা/৮০৪-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)।
---------------------------------------------------
extract from above:-
--বুকে হাত বাধার:সহিহ হাদীস--
1)সাহিল বিন সাদ বলেন,আমরা নির্দেশিত হয়েছি নামাজে ডান হাত বাম হাতের জেরার উপর রাখার(সহিহ বুখারী 740 নং হাদীস)।যেরা অর্থ কনুই থেকে মধ্যমা আঙ্গুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ হাত।[এই পদ্ধতি আপনি পরীক্ষা করেন আল্লাহর ইচ্ছায় হাত বুকে এসে যাবে।]
2]-- 2)ওয়াইল বিন হুজর থেকে বর্নিত,রাসুল(সা) বাম হাতের তালু,কব্জি এবং বাহুর উপর ডান হাত রাখতেন(সুনান আবু দাউদ 727 নং হাদীস,সুনান আল সুগরাহ লিল নাসাঈ 889,মুসনাদ আহমদ 22017,ইবনে হিব্বান 1860,ইবন খুজায়মাহ 480 নং হাদীস,সনদ সহিহ) এই হাদীস অনুসারে যদি ডান হাত দিয়ে পুরো অংশ ধরা হয় তাহলে হাত এমনিতে বুকের উপর উঠে যাবে।যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম নাসিরউদ্দিন আলবানী(রাহ:)বলেন,এই হাদীসের বর্ননাক্রিত অবস্থার ফলে হাত বুকে আসে।
3]-- আবু দাউদ 757
4]-- আবু দাউদ 759 নং হাদীস সনদ সহিহ।
5]-- বায়হাকী 2384
6]-- মুজাম আল কাবীরা 17901 হাদীস সহিহ।
7]-- মুসনাদ আল বাযযার 4488 নং হাদীস।
8]-- ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/৪৭৯; আবুদাঊদ হা/৭৫৫, ইবনু মাস‘ঊদ হ’তে; ঐ, হা/৭৫৯।
ETC.
1)সাহিল বিন সাদ বলেন,আমরা নির্দেশিত হয়েছি নামাজে ডান হাত বাম হাতের জেরার উপর রাখার(সহিহ বুখারী 740 নং হাদীস)।যেরা অর্থ কনুই থেকে মধ্যমা আঙ্গুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ হাত।[এই পদ্ধতি আপনি পরীক্ষা করেন আল্লাহর ইচ্ছায় হাত বুকে এসে যাবে।]
2]-- 2)ওয়াইল বিন হুজর থেকে বর্নিত,রাসুল(সা) বাম হাতের তালু,কব্জি এবং বাহুর উপর ডান হাত রাখতেন(সুনান আবু দাউদ 727 নং হাদীস,সুনান আল সুগরাহ লিল নাসাঈ 889,মুসনাদ আহমদ 22017,ইবনে হিব্বান 1860,ইবন খুজায়মাহ 480 নং হাদীস,সনদ সহিহ) এই হাদীস অনুসারে যদি ডান হাত দিয়ে পুরো অংশ ধরা হয় তাহলে হাত এমনিতে বুকের উপর উঠে যাবে।যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম নাসিরউদ্দিন আলবানী(রাহ:)বলেন,এই হাদীসের বর্ননাক্রিত অবস্থার ফলে হাত বুকে আসে।
3]-- আবু দাউদ 757
4]-- আবু দাউদ 759 নং হাদীস সনদ সহিহ।
5]-- বায়হাকী 2384
6]-- মুজাম আল কাবীরা 17901 হাদীস সহিহ।
7]-- মুসনাদ আল বাযযার 4488 নং হাদীস।
8]-- ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/৪৭৯; আবুদাঊদ হা/৭৫৫, ইবনু মাস‘ঊদ হ’তে; ঐ, হা/৭৫৯।
ETC.
Sunday, 15 November 2015
ছালাতু তাছবীহ্ নামায কি পড়া যাবে ? : না, হাদীছ ছহীহ্ নয়
প্রশ্নঃ ছালাতু তাছবীহ্ নামায কি পড়া যাবে ?
===============================
উত্তরঃ ছালাতুত্ তাছবীহ্ নামায নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ) বলেন, এসম্পর্কিত হাদীছ ছহীহ্ নয়।
===============================
উত্তরঃ ছালাতুত্ তাছবীহ্ নামায নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ) বলেন, এসম্পর্কিত হাদীছ ছহীহ্ নয়।
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রহঃ) বলেন, ‘এসম্পর্কিত হাদীছ মিথ্যা।
ইমাম আহমাদ এবং তাঁর অনুসারী ইমামগণ এ নামাযকে মাকরূহ মনে করতেন।
কোন ইমামই এ নামাযকে মুস্তাহাব বলেন নি।
আর অন্যান্য ইমামগণ আবু হানীফা, মালেক ও শাফেঈ এ সম্পর্কে কোন কিছু শোনেন নি তাই কোন মন্তব্যও করেন নি।”
শায়খুল ইসলামের এ কথা খুবই সত্য। কেননা এ নামায বিশুদ্ধ হলে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে উম্মতের কাছে সন্দেহাতীতভাবে ছহীহ্ সনদে বর্ণনা করা হত। কেননা তাতে রয়েছে বিরাট প্রতিদান ও উপকার।
তাছাড়া সাধারণ নামাযের পদ্ধতি থেকেও তা সম্পূর্ণ আলাদা। বরং সমস্ত ইবাদত থেকে এটি মূলতঃ আলাদা ধরণের।
কেননা এমন কোন ইবাদত আমরা দেখিনা, যা আদায় করার জন্য এধরণের এখতিয়ার দেয়া হয়েছে- প্রতিদিন আদায় করবে অথবা সপ্তাহে একবার অথবা মাসে একবার অথবা বছরে একবার অথবা সারা জীবনে হলেও একবার।
তাছাড়া কোন বিষয় মৌলিকতা থেকে আলাদা হলে মানুষ তার প্রতি গুরুত্বারোপ করতো, বিষয়টি অন্যরকম হওয়ার কারণে মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রচলিত থকাতো। এর কোনটিই না হওয়ার কারণে বুঝা যায়, এ নামায শরীয়ত সম্মত নয়। আর এ কারণেই কোন ইমাম একে মুস্তাহাব বলেননি। (আল্লাহ্ই অধিক জ্ঞান রাখেন।)
-ফাতওয়া আরকানুল ইসলাম
লিখেছেন শাইখ উসাইমিন রহঃ
ইমাম আহমাদ এবং তাঁর অনুসারী ইমামগণ এ নামাযকে মাকরূহ মনে করতেন।
কোন ইমামই এ নামাযকে মুস্তাহাব বলেন নি।
আর অন্যান্য ইমামগণ আবু হানীফা, মালেক ও শাফেঈ এ সম্পর্কে কোন কিছু শোনেন নি তাই কোন মন্তব্যও করেন নি।”
শায়খুল ইসলামের এ কথা খুবই সত্য। কেননা এ নামায বিশুদ্ধ হলে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে উম্মতের কাছে সন্দেহাতীতভাবে ছহীহ্ সনদে বর্ণনা করা হত। কেননা তাতে রয়েছে বিরাট প্রতিদান ও উপকার।
তাছাড়া সাধারণ নামাযের পদ্ধতি থেকেও তা সম্পূর্ণ আলাদা। বরং সমস্ত ইবাদত থেকে এটি মূলতঃ আলাদা ধরণের।
কেননা এমন কোন ইবাদত আমরা দেখিনা, যা আদায় করার জন্য এধরণের এখতিয়ার দেয়া হয়েছে- প্রতিদিন আদায় করবে অথবা সপ্তাহে একবার অথবা মাসে একবার অথবা বছরে একবার অথবা সারা জীবনে হলেও একবার।
তাছাড়া কোন বিষয় মৌলিকতা থেকে আলাদা হলে মানুষ তার প্রতি গুরুত্বারোপ করতো, বিষয়টি অন্যরকম হওয়ার কারণে মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রচলিত থকাতো। এর কোনটিই না হওয়ার কারণে বুঝা যায়, এ নামায শরীয়ত সম্মত নয়। আর এ কারণেই কোন ইমাম একে মুস্তাহাব বলেননি। (আল্লাহ্ই অধিক জ্ঞান রাখেন।)
-ফাতওয়া আরকানুল ইসলাম
লিখেছেন শাইখ উসাইমিন রহঃ
Saturday, 14 November 2015
ফযর সালাতের ওয়াক্ত : ফযরের কাযা সালাত কখন, কিভাবে পড়তে হবে?
প্রশ্নঃ ফযর সালাতের ওয়াক্ত কখন শুরু ও শেষ হয়?
উত্তরঃ এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্যে প্রথমে আমাদেরকে জানতে হবে,
‘সুবহি সাদিক্ব’ বলতে কি বোঝায়?
রাত শেষ হয়ে যখন ভোর হওয়া শুরু হয়, তখন আকাশের বুক চিরে পূর্ব দিক থেকে প্রথম সাদা একটা আলোর রেখা পশ্চিম দিকে যায়, একে ‘সুবহি সাদিক্ব’ বা বাংলায় ‘সত্য সকাল’ বলা হয়।
দিনের প্রথম সালাত হচ্ছে ফযর সালাত, আর ফযর সালাতের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন ‘সুবহি সাদিক্ব’ দেখা যায় তখন থেকে। আর ফযর সালাতের ওয়াক্ত শেষ হয় যখন পূর্ব আকাশে ‘সূর্য উদয়’ হওয়া শুরু হয়।
উল্লেখ্য, ‘সুবহি সাদিক্ব’ দেখা গেলে সাওমের জন্যে ‘সাহরী’ খাওয়ার সময়ও শেষ হয়ে যায়। এর পর থেকে সাওম ভংগকারী বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। আমাদের দেশে প্রচলিত মসজিদগুলোতে রমযান মাসে সাধারণত ফযরের আযান দেওয়া হয় সুবহি সাদিক্বের ৩ থেকে ৫ মিনিট পরে। আর সারা বছর ফযরের ওয়াক্ত হওয়ার কোথাও ১০ মিনিট পরে, কোথাও ২০ মিনিট পরে আবার, কোন মসজিদে আরো অনেক পরে ফযরের আযান দেওয়া হয়। এটা সুন্নতের খেলাপ, কারণ ‘সুন্নাহ’ হচ্ছে সুবহি সাদিক্ব দেখা গেলে ফযরের আযান দেওয়া, বিনা কারণে ইচ্ছাকৃত দেরী না করা। অনেকে মনে করেন, ফযরের আযান দেওয়া পর্যন্ত সাহরী খাওয়া যায়, নিঃসন্দেহে এটা ভুল ধারণা। কারণ ‘সুবহি সাদিক্ব’ বা ‘ফযরের ওয়াক্ত’ শুরু হওয়া মাত্র আপনার পাশ্বর্বর্তী মসজিদে আযান দেওয়া হোক বা না হোক, ঐ সময় থেকে পানাহার থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। সেইজন্য আপনারা সাহরী খাওয়ার জন্য ক্যালেন্ডারে সময়ের দিকে খেয়াল রাখবেন এবং যেই মসজিদ দেরী করে তাদের উপর নির্ভর করবেন না।
সাহরী সম্পর্কে একটা কথা হচ্ছে, অনেক সময় সাহরী খাওয়ার জন্যে হাতে খুব সময় থাকে। এমন অবস্থায় খাওয়া শুরু করলে আর খেতে খেতে সাহরীর সময় শেষ হয়ে গেলে, আপনার মুখে যেই খাবার থাকে, বা প্লেইটে খেলে প্লেইট হাতের কাছে ও গ্লাসে যেই পানি থাকে সামান্য সময়ের মাঝে সেটা আপনি খেতে পারবেন, সেটা ফেলে দিতে হবেনা। তবে সেটা যেন অল্প সময়ের মাঝেই হয়, এবং নতুন করে কোন খাবার নেওয়া যাবেনা।
________________________
আধুনিক যুগে আমাদের অনেকেই আকাশ দেখে ‘সুবহি সাদিক’ এবং ‘সূর্য উদয়’ হওয়া ধরতে পারিনা। সেইজন্য বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পূর্ব নির্ধারতি ক্যালেন্ডারে সালাতের সময়সূচী দেখে আমরা ফযর সালাতের প্রথম ও শেষ ওয়াক্ত হওয়া জানতে পারি। ‘হাদীস ফাউন্ডেশান’ বা ‘তাওহীদ পাবলিকেশান’ থেকে আপনারা সালাতের সময়সূচীর ক্যালেন্ডার কিনে সেখান থেকে প্রতিদিনের ওয়াক্ত জানতে পারবেন, এইগুলো নির্ভরযোগ্য ক্যলেন্ডার প্রকাশ করে। অথবা নিচের এই ওয়েব সাইট থেকেও আপনারা অনলাইনে প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময়সূচী সম্পর্কে জানতে পারবেন, এটাও নির্ভরযোগ্য একটা সাইট।
উত্তরঃ এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্যে প্রথমে আমাদেরকে জানতে হবে,
‘সুবহি সাদিক্ব’ বলতে কি বোঝায়?
রাত শেষ হয়ে যখন ভোর হওয়া শুরু হয়, তখন আকাশের বুক চিরে পূর্ব দিক থেকে প্রথম সাদা একটা আলোর রেখা পশ্চিম দিকে যায়, একে ‘সুবহি সাদিক্ব’ বা বাংলায় ‘সত্য সকাল’ বলা হয়।
দিনের প্রথম সালাত হচ্ছে ফযর সালাত, আর ফযর সালাতের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন ‘সুবহি সাদিক্ব’ দেখা যায় তখন থেকে। আর ফযর সালাতের ওয়াক্ত শেষ হয় যখন পূর্ব আকাশে ‘সূর্য উদয়’ হওয়া শুরু হয়।
উল্লেখ্য, ‘সুবহি সাদিক্ব’ দেখা গেলে সাওমের জন্যে ‘সাহরী’ খাওয়ার সময়ও শেষ হয়ে যায়। এর পর থেকে সাওম ভংগকারী বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। আমাদের দেশে প্রচলিত মসজিদগুলোতে রমযান মাসে সাধারণত ফযরের আযান দেওয়া হয় সুবহি সাদিক্বের ৩ থেকে ৫ মিনিট পরে। আর সারা বছর ফযরের ওয়াক্ত হওয়ার কোথাও ১০ মিনিট পরে, কোথাও ২০ মিনিট পরে আবার, কোন মসজিদে আরো অনেক পরে ফযরের আযান দেওয়া হয়। এটা সুন্নতের খেলাপ, কারণ ‘সুন্নাহ’ হচ্ছে সুবহি সাদিক্ব দেখা গেলে ফযরের আযান দেওয়া, বিনা কারণে ইচ্ছাকৃত দেরী না করা। অনেকে মনে করেন, ফযরের আযান দেওয়া পর্যন্ত সাহরী খাওয়া যায়, নিঃসন্দেহে এটা ভুল ধারণা। কারণ ‘সুবহি সাদিক্ব’ বা ‘ফযরের ওয়াক্ত’ শুরু হওয়া মাত্র আপনার পাশ্বর্বর্তী মসজিদে আযান দেওয়া হোক বা না হোক, ঐ সময় থেকে পানাহার থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। সেইজন্য আপনারা সাহরী খাওয়ার জন্য ক্যালেন্ডারে সময়ের দিকে খেয়াল রাখবেন এবং যেই মসজিদ দেরী করে তাদের উপর নির্ভর করবেন না।
সাহরী সম্পর্কে একটা কথা হচ্ছে, অনেক সময় সাহরী খাওয়ার জন্যে হাতে খুব সময় থাকে। এমন অবস্থায় খাওয়া শুরু করলে আর খেতে খেতে সাহরীর সময় শেষ হয়ে গেলে, আপনার মুখে যেই খাবার থাকে, বা প্লেইটে খেলে প্লেইট হাতের কাছে ও গ্লাসে যেই পানি থাকে সামান্য সময়ের মাঝে সেটা আপনি খেতে পারবেন, সেটা ফেলে দিতে হবেনা। তবে সেটা যেন অল্প সময়ের মাঝেই হয়, এবং নতুন করে কোন খাবার নেওয়া যাবেনা।
________________________
আধুনিক যুগে আমাদের অনেকেই আকাশ দেখে ‘সুবহি সাদিক’ এবং ‘সূর্য উদয়’ হওয়া ধরতে পারিনা। সেইজন্য বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পূর্ব নির্ধারতি ক্যালেন্ডারে সালাতের সময়সূচী দেখে আমরা ফযর সালাতের প্রথম ও শেষ ওয়াক্ত হওয়া জানতে পারি। ‘হাদীস ফাউন্ডেশান’ বা ‘তাওহীদ পাবলিকেশান’ থেকে আপনারা সালাতের সময়সূচীর ক্যালেন্ডার কিনে সেখান থেকে প্রতিদিনের ওয়াক্ত জানতে পারবেন, এইগুলো নির্ভরযোগ্য ক্যলেন্ডার প্রকাশ করে। অথবা নিচের এই ওয়েব সাইট থেকেও আপনারা অনলাইনে প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময়সূচী সম্পর্কে জানতে পারবেন, এটাও নির্ভরযোগ্য একটা সাইট।
http://www.islamicfinder.org/cityPrayerNew.php…
এই ওয়েব সাইটে ‘Fajr’ দ্বারা বোঝাচ্ছে ফযর ওয়াক্ত শুরু, আর ‘Sunrise’ (সূর্য উদয়) কথার দ্বারা অর্থ হচ্ছেঃ ফযর সালাত পড়ার শেষ সময়। সুতরাং সে অনুযায়ী আজ (১৬ই আগস্ট, ২০১৫-ইং তারিখে) ঢাকাতে ফযরের ওয়াক্ত শুরু ৪:১৫ মিনিটে, আর ফযরের ওয়াক্ত শেষ ৫:৩৪ মিনিটে।
এছাড়া আপনারা প্রতিদিন খবরের কাগজে, টিভি থেকে বা স্থায়ী ক্যালেন্ডার যা কিনতে পাওয়া যায়। সেখান থেকে প্রতিদিনের সালাতের ওয়াক্তের সময়সূচী জানতে পারবেন।
সালাতের সময় ঢাকা থেকে দেশের অন্যান্য জেলা শহরগুলোর মাঝে ১-৫/৭ মিনিট পর্যন্ত কম বা বেশি হয়। সাধারণত ক্যালেন্ডারে রাজধানী ঢাকার সালাতের ওয়াক্ত দেওয়া থাকে। সুতরাং আপনি আপনার শহরে নিকটস্থ মসজিদ, মাদ্রাসা থেকে জেনে নেবেন, আপনার এলাকাতে সালাতের সময় হিসাব জন্য ক্যালেন্ডারের সময়ের সাথে কত মিনিট যোগ বা বিয়োগ করতে হবে। এটা ক্যলেন্ডারে সময়সূচীর নিচেও দেওয়া থাকে।
________________________
প্রশ্নঃ ফযরের কাযা সালাত কখন, কিভাবে পড়তে হবে?
এখানে আরো একটি কথা আমি উল্লেখ করতে চাই, অনেক সময় এলার্ম দিয়েও ঘুম থেকে উঠতে না পারলে ফযরের ‘কাযা’ সালাত কখন পড়বেন, সেটা নিয়ে অনেকে ভুল ধারণার উপরে আছেন। অনেকে মনে করেন, ঘুম থেকে উঠে যখন ইচ্ছা তখন পড়বেন, অনেক মনে করেন পরবর্তী সালাত (অর্থাৎ যোহরের সময় পড়তে হবে)...
এই ধারণাগুলো ভুল। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ফযরের সালাতের জন্যে উঠতে না পারলে, বান্দা যখনই ঘুম থেকে উঠবে ঠিক তখনই ফযরের সালাত ‘কাযা’ আদায় করে নিবে। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“যে ব্যক্তি সালাতের কথা ভুলে যায়, কিংবা সালাত না পড়ে ঘুমিয়ে থাকে, তার কাফফারা হলঃ যখন সালাতের কথা স্মরণ হবে তখনই সে তা আদায় করে নেবে।” [সহীহুল বুখারী]
সুতরাং, ফযরের সময় টের না পেলে যখনই উঠবেন তখনই কাযা সালাত পড়ে নেবেন। কাযা সালাতের জন্যে আলাদা কোন নিয়ত নেই। শুধু সালাতের পূর্বে মনে মনে চিন্তা করে নিলেই হবে বা স্থির করে নিলেই হবেঃ আমি ফযরের ২ রাকাত সুন্নাত সালাতের কাযা আদায় করছি অথবা, আমি ফযরের ২ রাকাত ফরয সালাতের কাযা আদায় করছি। উল্লেখ্য, ফযরের সুন্নত সালাতের অনেক বড় ফযীলত রয়েছে, সুতরাং ফযরের সুন্নত সালাতের কাযা আদায় করা ভালো, যদিও সুন্নত সালাতের কাযা আদায় করা ফরয নয়। তবে সওয়ার অনেক বেশি, সুতরাং পড়াই উত্তম। আর সে ক্ষেত্রে, স্বাভাবিক নিয়মের মতোই প্রথমে ফযরের সুন্নত, এর পরে ফরয সালাত পড়বেন।
________________________
চলবে। ইন শা' আল্লাহ আগামী পর্বে অন্যান্য ওয়াক্তের সময় দেওয়া হবে।
বিনীত
- আনসারুস সুন্নাহ।
এই ওয়েব সাইটে ‘Fajr’ দ্বারা বোঝাচ্ছে ফযর ওয়াক্ত শুরু, আর ‘Sunrise’ (সূর্য উদয়) কথার দ্বারা অর্থ হচ্ছেঃ ফযর সালাত পড়ার শেষ সময়। সুতরাং সে অনুযায়ী আজ (১৬ই আগস্ট, ২০১৫-ইং তারিখে) ঢাকাতে ফযরের ওয়াক্ত শুরু ৪:১৫ মিনিটে, আর ফযরের ওয়াক্ত শেষ ৫:৩৪ মিনিটে।
এছাড়া আপনারা প্রতিদিন খবরের কাগজে, টিভি থেকে বা স্থায়ী ক্যালেন্ডার যা কিনতে পাওয়া যায়। সেখান থেকে প্রতিদিনের সালাতের ওয়াক্তের সময়সূচী জানতে পারবেন।
সালাতের সময় ঢাকা থেকে দেশের অন্যান্য জেলা শহরগুলোর মাঝে ১-৫/৭ মিনিট পর্যন্ত কম বা বেশি হয়। সাধারণত ক্যালেন্ডারে রাজধানী ঢাকার সালাতের ওয়াক্ত দেওয়া থাকে। সুতরাং আপনি আপনার শহরে নিকটস্থ মসজিদ, মাদ্রাসা থেকে জেনে নেবেন, আপনার এলাকাতে সালাতের সময় হিসাব জন্য ক্যালেন্ডারের সময়ের সাথে কত মিনিট যোগ বা বিয়োগ করতে হবে। এটা ক্যলেন্ডারে সময়সূচীর নিচেও দেওয়া থাকে।
________________________
প্রশ্নঃ ফযরের কাযা সালাত কখন, কিভাবে পড়তে হবে?
এখানে আরো একটি কথা আমি উল্লেখ করতে চাই, অনেক সময় এলার্ম দিয়েও ঘুম থেকে উঠতে না পারলে ফযরের ‘কাযা’ সালাত কখন পড়বেন, সেটা নিয়ে অনেকে ভুল ধারণার উপরে আছেন। অনেকে মনে করেন, ঘুম থেকে উঠে যখন ইচ্ছা তখন পড়বেন, অনেক মনে করেন পরবর্তী সালাত (অর্থাৎ যোহরের সময় পড়তে হবে)...
এই ধারণাগুলো ভুল। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ফযরের সালাতের জন্যে উঠতে না পারলে, বান্দা যখনই ঘুম থেকে উঠবে ঠিক তখনই ফযরের সালাত ‘কাযা’ আদায় করে নিবে। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“যে ব্যক্তি সালাতের কথা ভুলে যায়, কিংবা সালাত না পড়ে ঘুমিয়ে থাকে, তার কাফফারা হলঃ যখন সালাতের কথা স্মরণ হবে তখনই সে তা আদায় করে নেবে।” [সহীহুল বুখারী]
সুতরাং, ফযরের সময় টের না পেলে যখনই উঠবেন তখনই কাযা সালাত পড়ে নেবেন। কাযা সালাতের জন্যে আলাদা কোন নিয়ত নেই। শুধু সালাতের পূর্বে মনে মনে চিন্তা করে নিলেই হবে বা স্থির করে নিলেই হবেঃ আমি ফযরের ২ রাকাত সুন্নাত সালাতের কাযা আদায় করছি অথবা, আমি ফযরের ২ রাকাত ফরয সালাতের কাযা আদায় করছি। উল্লেখ্য, ফযরের সুন্নত সালাতের অনেক বড় ফযীলত রয়েছে, সুতরাং ফযরের সুন্নত সালাতের কাযা আদায় করা ভালো, যদিও সুন্নত সালাতের কাযা আদায় করা ফরয নয়। তবে সওয়ার অনেক বেশি, সুতরাং পড়াই উত্তম। আর সে ক্ষেত্রে, স্বাভাবিক নিয়মের মতোই প্রথমে ফযরের সুন্নত, এর পরে ফরয সালাত পড়বেন।
________________________
চলবে। ইন শা' আল্লাহ আগামী পর্বে অন্যান্য ওয়াক্তের সময় দেওয়া হবে।
বিনীত
- আনসারুস সুন্নাহ।
চেয়ারে বসা সালাত আদায় করা ফতোয়া
আস্সালামু আলাইকুম শায়খ,
একটি জরুরী মাসআ’লা জানতে চাই।
এক্সিডেন্টের ফলে আমার হাঁটতে কষ্ট হয় বিধায় আমি চেয়ারে বসে সালাত আদায়ের চেষ্টা করি। আলহামদুলিল্লাহ্, এখন অনেকটা সুস্থ। চেয়ার ছাড়াই আজ আসরের সালাত আদায় করতে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা অনুভব করলাম। আমি যদি হাঁটুতে নরম কোন প্যাড লাগিয়ে অথবা জায়নামাজে যদি ছোট একটি বালিশের উপর হাঁটু রেখে সালাত আদায় করতে চাই, তাহলে কি তা শুদ্ধ হবে?
____________________________
শায়খ Abdur Raquib উত্তরে বলেনঃ
ওয়ালাইকুমুস সালাম। আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
“আল্লাহ সাধ্যের অতিরিক্ত কাউকে বাধ্য করেন না।” [বাকারাহ/২৮৬]
নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
“দাঁড়িয়ে নামায পড়, যদি না পারো তাহলে বসে পড়, তাও যদি না পারো তাহলে পার্শ্বদেশে ভর দিয়ে।” [সহীহ বুখারীঃ ১১১৭]
তাই যে অসুস্থ ব্যক্তি দাঁড়াতে অক্ষম, কিংবা দাঁড়াতে কষ্ট হয়, কিংবা দাঁড়ালে অসুখ বেশী হওয়ার আশংকা থাকে কিংবা অসুখ সারতে দেরী হওয়ার আশংকা থাকে, তাহলে সে বসেই নামায আদায় করবে। এবং তাকে যেই ভাবে ও যাতে বসতে সহজ হবে সে সেই ভাবে ও তাতে বসবে। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়াতে অক্ষম হলে বসার কথা বলেছেন এবং কোনো এক বসার নিয়ম বা স্থান নির্ধারণ করে দেন নি। আর যেহেতু আপনি এখনও পুরো সুস্থ নন, তাই ঝুকলে ব্যাথা হয়, যা অসুখ বিলম্বে সারার কারণ। সে কারণে পুরো সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আপনি চেয়ারে বসেই নামায পড়বেন এবং এই অপারগতার কারণে আপনি পুরো সওয়াব পাবেন। হাঁটুতে পট্টি বা নিচে বালিশ ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। কারণ এমন করার অর্থ দাঁড়ায় আপনি অসুস্থতার কারণে বসে নামায পড়ার যেই ছাড় শরিয়াহ আপনাকে দিয়েছে তা কোনো না কোনোরূপে অপছন্দ করছেন; অথচ এটা একটি ছাড় আর আল্লাহ পছন্দ করেন যে, বান্দা যেন তার ছাড় গ্রহণ করে।
ওয়াল্লাহু আ’লাম।
একটি জরুরী মাসআ’লা জানতে চাই।
এক্সিডেন্টের ফলে আমার হাঁটতে কষ্ট হয় বিধায় আমি চেয়ারে বসে সালাত আদায়ের চেষ্টা করি। আলহামদুলিল্লাহ্, এখন অনেকটা সুস্থ। চেয়ার ছাড়াই আজ আসরের সালাত আদায় করতে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা অনুভব করলাম। আমি যদি হাঁটুতে নরম কোন প্যাড লাগিয়ে অথবা জায়নামাজে যদি ছোট একটি বালিশের উপর হাঁটু রেখে সালাত আদায় করতে চাই, তাহলে কি তা শুদ্ধ হবে?
____________________________
শায়খ Abdur Raquib উত্তরে বলেনঃ
ওয়ালাইকুমুস সালাম। আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
“আল্লাহ সাধ্যের অতিরিক্ত কাউকে বাধ্য করেন না।” [বাকারাহ/২৮৬]
নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
“দাঁড়িয়ে নামায পড়, যদি না পারো তাহলে বসে পড়, তাও যদি না পারো তাহলে পার্শ্বদেশে ভর দিয়ে।” [সহীহ বুখারীঃ ১১১৭]
তাই যে অসুস্থ ব্যক্তি দাঁড়াতে অক্ষম, কিংবা দাঁড়াতে কষ্ট হয়, কিংবা দাঁড়ালে অসুখ বেশী হওয়ার আশংকা থাকে কিংবা অসুখ সারতে দেরী হওয়ার আশংকা থাকে, তাহলে সে বসেই নামায আদায় করবে। এবং তাকে যেই ভাবে ও যাতে বসতে সহজ হবে সে সেই ভাবে ও তাতে বসবে। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়াতে অক্ষম হলে বসার কথা বলেছেন এবং কোনো এক বসার নিয়ম বা স্থান নির্ধারণ করে দেন নি। আর যেহেতু আপনি এখনও পুরো সুস্থ নন, তাই ঝুকলে ব্যাথা হয়, যা অসুখ বিলম্বে সারার কারণ। সে কারণে পুরো সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আপনি চেয়ারে বসেই নামায পড়বেন এবং এই অপারগতার কারণে আপনি পুরো সওয়াব পাবেন। হাঁটুতে পট্টি বা নিচে বালিশ ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। কারণ এমন করার অর্থ দাঁড়ায় আপনি অসুস্থতার কারণে বসে নামায পড়ার যেই ছাড় শরিয়াহ আপনাকে দিয়েছে তা কোনো না কোনোরূপে অপছন্দ করছেন; অথচ এটা একটি ছাড় আর আল্লাহ পছন্দ করেন যে, বান্দা যেন তার ছাড় গ্রহণ করে।
ওয়াল্লাহু আ’লাম।
---------------------------------------------------------------------------------------------
Friday, 13 November 2015
Subscribe to:
Posts (Atom)






