Friday, 22 January 2016

যখন সালাতের জন্য ইকামত দেওয়া হয়, তখন দৌড়ে এসোনা

মসজিদে গেলে দেখা যায় জামা'আত চলাকালীন রুকূ ধরার জন্য শিশু থেকে শুরু করে অনেক বৃদ্ধ পর্যন্ত দৌড় দেয়। যার উদ্দেশ্য হল রাক'আত পাওয়া। দুঃখজনক ব্যাপার হল আলেমগণ এসব নিয়ে কোন আলোচনা করেন না। অথচ, ইহা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বি'আল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যখন সালাতের জন্য ইকামত দেওয়া হয়, তখন দৌড়ে এসোনা, বরং স্বাভাবিকভাবে হেঁটে আসো, ধীরে-সুস্হে আসো; সালাতের যতটুকু অংশ পাও ততটুকু পড়, আর যতটুকু পাওনি তা পূর্ণ কর। {সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম}

প্রসঙ্গতঃ রুকূ পেলে রাক'আত পাওয়ার বিষয়টিও শর্তস্বাপেক্ষ। অনেককে দেখা যায় বারান্দায় গল্প করে যাচ্ছে, কিন্তু যখনই ইমাম সাহেব আল্লাহু আকবর বলে রুকূতে যায় তখনই দ্রুত নামাযে শামিল হয়। এতে রাক'আত পাওয়া হবে না, কারণ বিশুদ্ধ মতানুসারে মুক্তাদীরও সূরা ফাতিহা পাঠ করা রূকন বা ওয়াজিব। মুক্তাদী সূরা ফাতিহা পড়তে ভুলে গেলে কিংবা তা পড়ার সময় না পেলে তখনই ঐ রাক'আত হয়ে যাবে, অন্যথায় নয়।

Saturday, 26 December 2015

কল্যাণের দিকে আসো

জোরে আমীন বলার ছহীহ হাদীছ সমূহ

প্রশ্ন : সুরা ফাতিহার শেষে জোরে আমিন বলার কোনো হাদীস আছে?
জোরে আমীন বলার ছহীহ হাদীছ সমূহ
জোরে আমীন বলার ছহীহ হাদীছ সমূহ :
সরবে আমীন বলার একাধিক ছহীহ হাদীছ রয়েছে।
(1) عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ إِذَا قَرَأَ وَلاَ الضَّالِّيْنَ قَالَ آمِيْنَ وَرَفَعَ بِهَا صَوْتَهُ.
(১) ওয়ায়েল ইবনু হুজর (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন ‘গাইরিল মাগযূবি আলাইহিম ওয়ালায য-ল্লীন’ বলতেন, তখন তিনি আমীন বলতেন। তিনি আমীনের আওয়াযটা জোরে করতেন।[1]
(2) عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ قَرَأَ غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ فَقَالَ آمِيْنَ وَمَدَّ بِهَا صَوْتَهُ.
(২) ওয়ায়েল ইবনু হুজর (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন ‘গাইরিল মাগযূবি আলাইহিম ওয়ালায য-ল্লীন’ বলতেন তখন তাকে আমীন বলতে শুনেছি। তিনি আমীনের আওয়ায জোরে করতেন।[2] ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন,
وَبِهِ يَقُوْلُ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ وَالتَّابِعِيْنَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ يَرَوْنَ أَنَّ الرَّجُلَ يَرْفَعُ صَوْتَهُ بِالتَّأْمِيْنِ وَلَا يُخْفِيْهَا وَبِهِ يَقُوْلُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَقُ.
‘রাসূলের ছাহাবী, তাবেঈ এবং তাদের পরবর্তী মুহাদ্দিছগণের মধ্যে অনেকেই এই কথা বলেছেন যে, মুছল্লী আমীন জোরে বলবে, নীরবে নয়। ইমাম শাফেঈ, আহমাদ ও ইসহাক্ব এ কথাই বলেছেন’।[3]
(3) عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ أَنَّهُ صَلَّى خَلْفَ رَسُوْلِ اللهِ فَجَهَرَ بِآمِيْنَ.
(৩) ওয়ায়েল ইবনু হুজর (রাঃ) একদা রাসূল (ছাঃ)-এর পিছনে ছালাত আদায় করেন। তখন রাসূল (ছাঃ) জোরে আমীন বলেন।[4]
(4) عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ قَالَ إِذَا أَمَّنَ الْإِمَامُ فَأَمِّنُوْا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِيْنُهُ تَأْمِيْنَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ يَقُوْلُ آمِيْنَ.
(৪) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ইমাম যখন আমীন বলবেন, তখন তোমরা আমীন বল। কারণ যার আমীন ফেরেশতাদের আমীনের সাথে মিলে যাবে, তার পূর্বের সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। ইবনু শিহাব বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমীন বলতেন।[5]
(5) عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ قَالَ إِذَا قَالَ الْإِمَامُ غَيْرِالْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ فَقُوْلُوْا آمِيْنَ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ.
(৫) আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ইমাম যখন ‘গাইরিল মাগযূবি আলাইহিম ওয়ালায য-ল্লীন’ বলবেন, তখন তোমরা ‘আমীন’ বল। কারণ যার কথা ফেরেশতাদের কথার সাথে মিলে যাবে, তার পূর্বের সকল পাপ ক্ষমা হয়ে যাবে’।[6] অন্য হাদীছে এসেছে, তোমরা আমীন বল আল্লাহ তোমাদের দু‘আ কবুল করবেন।[7] অন্য বর্ণনায় আছে, ক্বারী যখন আমীন বলবেন, তখন তোমরা ‘আমীন’ বল।[8]
ইমাম বুখারী (রহঃ) অনুচ্ছেদ রচনা করে বলেন, بَابُ جَهْرِ الْإِمَامِ بِالتَّأْمِيْنِ وَقَالَ عَطَاءٌ آمِيْنَ دُعَاءٌ أَمَّنَ ابْنُ الزُّبَيْرِ وَمَنْ وَرَاءَهُ حَتَّى إِنَّ لِلْمَسْجِدِ لَلَجَّةً... ‘ইমামের উচ্চৈঃস্বরে আমীন বলা অনুচ্ছেদ। আত্বা বলেন, আমীন হল দু‘আ। ইবনু যুবাইর এবং তার পিছনের মুছল্লীরা এমন জোরে আমীন বলতেন, যাতে মসজিদ বেজে উঠত..’। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন- بَابُ جَهْرِ الْمَأْمُوْمِ بِالتَّأْمِيْنِ ‘মুক্তাদীর উচ্চৈঃস্বরে আমীন বলা অনুচ্ছেদ’।[9]
জ্ঞাতব্য : অনেকে দাবী করেন, উক্ত হাদীছগুলোতে আমীন জোরে বলার কথা নেই। অথচ হাদীছে বলা হয়েছে ‘যখন ইমাম আমীন বলবে তখন তোমরা আমীন বল’। তাহলে ইমাম ‘আমীন’ জোরে না বললে মুক্তাদীরা কিভাবে বুঝতে পারবে এবং কখন আমীন বলবে? তাছাড়া মুছল্লীদের আমীনের সাথে ফেরেশতাদের আমীন কিভাবে মিলবে? অন্য হাদীছে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ قَالَ مَا حَسَدَتْكُمُ الْيَهُوْدُ عَلَى شَيْءٍ مَا حَسَدَتْكُمْ عَلَى السَّلاَمِ وَالتَّأْمِيْنِ.
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা ‘সালাম’ ও ‘আমীন’ বলার কারণে ইহুদীরা তোমাদের সাথে সবচেয়ে বেশী হিংসা করে’।[10]
ইহুদীরা যদি আমীন না শুনতে পায় তাহলে তারা হিংসা করবে কিভাবে? অতএব উচ্চৈঃস্বরে আমীন বলার সুন্নাত গ্রহণ করাই হবে প্রকৃত মুমিনের দায়িত্ব
(।]. আবুদাঊদ হা/৯৩২, ১/১৩৪-১৩৫ পৃঃ। [2]. তিরমিযী হা/২৪৮, ১/৫৭-৫৮ পৃঃ। [3]. তিরমিযী ১/৫৭-৫৮ পৃঃ। [4]. আবুদাঊদ হা/৯৩৩, ১/১৩৫ পৃঃ, সনদ ছহীহ। [5]. বুখারী হা/৭৮০, ১ম খন্ড, পৃঃ ১০৭, (ইফাবা হা/৭৪৪ ও ৭৪৬, ২/১২১ পৃঃ); মুসলিম হা/৯৪২, ১ম খন্ড, পৃঃ ১৭৬; আবুদাঊদ হা/৯৩২ ও ৯৩৩, ১/১৩৫ পৃঃ; তিরমিযী হা/২৪৮, ১/৫৭ ও ৫৮ পৃঃ; ইবনু মাজাহ হা/৮৫৬। [6]. ছহীহ বুখারী হা/৭৮২, ১ম খন্ড, পৃঃ ১০৭-৮। [7]. আবুদাঊদ হা/৯৭২, ১/১৪০ পৃঃ إذا قرأ: (غير المغضوب عليهم ولا الضالِّين) فَقُوْلُوْا آميْن يُجبْكُم الله। [8]. বুখারী হা/৬৪০২, ২/৯৪৭ পৃঃ। [9]. ছহীহ বুখারী ১ম খন্ড, পৃঃ ১০৭-৮, হা/৭৮০, (ইফাবা হা/৭৪৪ ও ৭৪৬, ২/১২১ পৃঃ)-এর অনুচ্ছেদ। [10]. আহমাদ, ইবনু মাজাহ হা/৮৫৬, সনদ ছহীহ; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৬৯১। [11]. হেদায়া ১/১০৫ পৃঃ। [12]. ঐ, পৃঃ ২৯৭-৩১২। [13]. তাফসীরে কুরতুবী ১/১২৭ পৃঃ। [14]. ফাতাওয়া উছায়মীন ১৩/৭৮ পৃঃ।
-------------------------------------------------------------------------
More-  http://sgis-ilikeit.blogspot.in/2016/04/blog-post_14.html

Friday, 25 December 2015

বিতির সালাত পড়ার সওয়াব কতটুকু? : বিতরের সালাত কত রাকআত?


প্রশ্নঃ বিতির সালাত পড়ার সওয়াব কতটুকু?
======================
উত্তর-বিতির নামায লাল রংয়ের উটের চাইতে বেশি মূল্যবান।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“আল্লাহ একটি নামায দান করে তোমাদেরকে বিশেষ সুযোগ করে দিয়েছেন যা তোমাদের জন্য লাল রংয়ের উটের চাইতে উত্তম। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! সেটা কোন নামায? তিনি বললেন, ‘বিতির নামায’ যা পড়া হয় ইশা নামাযের পর থেকে ফযর উদয় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।”
আবু দাউদঃ ১৪১৮, তিরমিযীঃ ৪৫২, ইবনে মাজাহ, দারেমী, হাদীসটি সহীহ।
“বিতির” শব্দের অর্থ কি?
বিতির শব্দের অর্থ হলো বেজোড়। আর বেজোড় সংখ্যা হলো ১, ৩, ৫, ইত্যাদি। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বিতির সালাত হিসেবে ১ রাকাত, ৩ রাকাত, ৫ রাকাত, ৭ রাকাত, ৯ রাকাত ও ১১ রাকাতও পড়েছেন।
কখন পড়তে হবে?
ইশার পর থেকে ফযরের আগে পর্যন্ত পড়া যাবে। তবে রাতের সর্বশেষ সালাত হিসেবে বিতির পড়তে হবে। বিতির রাতের শেষ অংশে পড়া বেশি সওয়াব, তবে নিয়মিত উঠার অভ্যাস না থাকলে বা শেষ রাত্রে উঠার নিশ্চয়তা না থাকলে ঘুমানোর আগেই পড়ে ফেলতে হবে।
বিতরের সালাতে কি একবার নাকি দু’বার সালাম ফিরাব?
দু’টাই করা জায়েয আছে।
(ক) এক সালামে বিতর পড়ার দলীল :
মিসওয়ার বিন মাখরামা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাতের বেলা আমরা আবূ বাকার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে দাফন করলাম। অতপর উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, ‘আমি বিতর পড়িনি। এই বলে তিনি দাঁড়ালেন আর আমার তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে গেলাম। এরপর তিনি আমাদের নিয়ে ৩ রাকআত বিতর পড়তেন। শেষ রাকআতের আগে তিনি সালাম ফিরাতেন না (এক সালামে তিন রাকাত বিতর পড়তেন)। (ত্বহাবী : ১৭৪২)
(খ) দু’ সালামে বিতর পড়ার দলীল :
আবদুল্লাহ ইবনে ‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু (বিতরে সালাত) প্রথম দুই রাকআত শেষ করে সালাম ফিরাতেন এবং পরে শেষ (তৃতীয়) রাকআতে আবার সালাম ফিরাতেন। প্রথম দুই রাকআতের সালাম ফিরানের পর প্রয়োজনে কোন কাজের নির্দেশও দিতেন। (বুখারী : ৯২১)
আয়েশা সিদ্দিকা (রা) বলেছেন: রাসূল (স) তিন রাকাত বিতরের সালাত আদায় করতেন। দ্বিতীয় রাকাতে বৈঠক করতেন না, শেষ রাকাতে বৈঠক করতেন। (হাকেম:১১৪০)
দ্বিতীয় পদ্ধতি: অন্নান্য সালাতের মত প্রথমে দুই রাকাত পড়ে নিবেন। তাঁরপর পৃথকভাবে এক রাকাত পড়বেন এবং রুকুর আগে বা পরে দুয়া কুনুত পড়ে সিজদা শেষে বসে সালাম ফিরাবেন। (মুসলিম: ১২৫২)
[fm= সহীহ্ ইসলামী জিজ্ঞাসা ভিডিও ]
----------------------------------------------------------------------
প্রশ্ন: বিতরের সালাত কত রাকআত?
উত্তর : বিতরের সালাতের সর্বনিম্ন
সংখ্যা হল এক রাক‘আত এবং সর্বোচ্চ
হল ১১ রাকআত।
বিতরের সালাত ১ রাকআত পড়াও
জায়েয আছে। আল্লাহর নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন :কেউ যদি ১ রাকআত বিতর
পড়তে চায়, তা সে করতে পারে। যে
ব্যক্তি বিতরের সালাত ৩ রাকআত
পড়তে চায়, তা সে পড়তে পারে।’’
কেউ ৫ রাকআত বিতর পড়তে চাইলে
তা সে পড়তে পারে।’’ (আবূ দাউদ :
১৪২২; নাসাঈ : ১৭১২)
এভাবে ৭ বা ৯ বা ১১ রাকআত পর্যন্ত
বিতরের সালাত আদায় করার সুযোগ
আছে, জায়েয আছে।
২-প্রশ্ন : বিতরের সালাতে কি
একবার নাকি দু’বার সালাম
ফিরাব?
উত্তর : দু’টাই করা জায়েয আছে।
(ক) এক সালামে বিতর পড়ার দলীল :
মিসওয়ার বিন মাখরামা থেকে
বর্ণিত, তিনি বলেন, রাতের বেলা
আমরা আবূ বাকার (রাদিয়াল্লাহু
আনহু) কে দাফন করলাম। অতপর উমার
(রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, ‘আমি
বিতর পড়িনি। এই বলে তিনি
দাঁড়ালেন আর আমার তাঁর পেছনে
দাঁড়িয়ে গেলাম। এরপর তিনি
আমাদের নিয়ে ৩ রাকআত বিতর
পড়তেন। শেষ রাকআতের আগে তিনি
সালাম ফিরাতেন না (এক সালামে
তিন রাকাত বিতর পড়তেন)।
(ত্বহাবী : ১৭৪২)
(খ) দু’ সালামে বিতর পড়ার দলীল :
আবদুল্লাহ ইবনে ‘উমার
রাদিয়াল্লাহু আনহু (বিতরে সালাত)
প্রথম দুই রাকআত শেষ করে সালাম
ফিরাতেন এবং পরে শেষ (তৃতীয়)
রাকআতে আবার সালাম ফিরাতেন।
প্রথম দুই রাকআতের সালাম
ফিরানের পর প্রয়োজনে কোন
কাজের নির্দেশও দিতেন। (বুখারী
: ৯২১)
আয়েশা সিদ্দিকা (রা) বলেছেন:
রাসূল (স) তিন রাকাত বিতরের
সালাত আদায় করতেন। দ্বিতীয়
রাকাতে বৈঠক করতেন না, শেষ
রাকাতে বৈঠক করতেন।
(হাকেম:১১৪০)
দ্বিতীয় পদ্ধতি: অন্নান্য সালাতের
মত প্রথমে দুই রাকাত পড়ে নিবেন।
তাঁরপর পৃথকভাবে এক রাকাত পড়বেন
এবং রুকুর আগে বা পরে দুয়া কুনুত পড়ে
সিজদা শেষে বসে সালাম
ফিরাবেন। (মুসলিম: ১২৫২)
৩-প্রশ্ন: বিতরের সালাত কি
মাগরিবের ৩ রাকাতের নিয়মে
পড়তে হবে?
উত্তর :না । এরূপ করার কোন সহি
হাদিস নেই।
ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসুল
(সাঃ) বলেছেন, রাতের বিতর তিন
রাকাত উহা দিনের বিতর
মাগরিবের মত।
এই হাদিস যইফ-দারাকুত্নী
হাদিসটি বর্ননা করেন এবং যইফ
সাব্যস্ত করেন।
ইবনু ওমর (রাঃ) এর বরাতে,'মাগরিব
হচ্ছে দিনের বিতর। তোমরা
রাতের নামাজকে বিতর
কর।'তাবারানী উক্ত হাদিস বর্ননা
করেন।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত,
রাসুল (সাঃ) বলেন,
'তোমরা মাগরিবের সালাতের
সাথে সাদৃশ্য করে তিন রাকাত
বিতর পড় না, বরং পাঁচ রাকাত
দ্বারা, সাত রাকাত দ্বারা বা নয়
রাকাত দ্বারা কিংবা এগার
রাকাত দ্বারা বিতর
পড়।'দারাকুত্নী উক্ত হাদিস বর্ননা
করেন, হাদিস সহিহ।

------------------------------------------------------------------
 

বইঃ সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত], অধ্যায়ঃ ৩/ কিতাবুল বিতর (বিতর নামায), হাদিস নম্বরঃ ৪৫৯

৬ ॥ বিতর নামায পাঁচ রাক‘আত
৪৫৯ । আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতের নামাযের সংখ্যা ছিল তের রাকাআত। এর মধ্যে পাঁচ রাকাআত তিনি বিতর আদায় করতেন। এ পাঁচ রাক'আত আদায় শেষ করেই তিনি বসতেন। মুয়াযযিন আযান দিলে তিনি উঠে হালকা দুই রাকাআত নামায আদায় করতেন। সহীহ। সহীহ আবু দাউদ- (১২০৯, ১২১০), সালাতুত তারাবীহ, মুসলিম।
এ অনুচ্ছেদে আবু আইউব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আয়িশাহ'র হাদীসটি হাসান সহীহ । নাবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও অন্যরা বিতর নামায পাঁচ রাকাআত হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এর কোন রাকাআতেই বসবে না, সর্বশেষ রাকাআতে বসবে।
আবু ঈসা বলেনঃ “নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় বা সাত রাকাআত বিতর পড়তেন” এই হাদীস সম্পর্কে আমি মুসআব আল-মাদীনীকে জিজ্ঞেস করলাম। আমি বললাম, তিনি কিভাবে নয় বা পড়ার পর সালাম ফিরাতেন এবং শেষে এক রাকাআত বিতর পড়তেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

Friday, 18 December 2015

বিতিৰৰ কুনূত -sahih

Juber Rahman বিত্‌ৰ নামাজৰ মুস্তাহাব ক্বিৰাআত-- এই নামাজত ছুৰা ফাতিহাৰ পিছত যিকোনো ছুৰা পঢ়িব পাৰি। তথাপি মুস্তাহাব হ'ল, প্রথম ৰাকআতত ছুৰা আ’লা, দ্বিতীয় ৰাকআতত ছুৰা কাফিৰুন আৰু তৃতীয় ৰাকআতত ছুৰা ইখলাছ পঢ়া। (আহমাদ, মুচনাদ, নাচাঈ,চুুনান, দাৰেমী, চুনান,হাকেম, মুস্তাদৰাক, মিশকাত ১২৭০-১২৭২নং) মহানবী (ছাঃ)এ মাজে-সময়ে তৃতীয় ৰাকআতত ছুৰা ইখলাছৰ সৈতে ছুৰা নাছ আৰু ফালাকও পাঠ কৰিছিল। (আবূদাঊদ, চুনান, তিৰমিজী, চুনান,হাকেম, মুস্তাদৰাক ১/৩০৫) বিতিৰৰ কুনূত : মহানবী (ছাঃ)এ হজৰত হাছান বিন আলী (ৰাঃ)-ক তলৰ দুআটো বিত্‌ৰ নামাজত ক্বিৰাআত শেষ কৰাৰ পিছত (ৰুকূৰ আগত) পঢ়িবলৈ শিকাইছিল:- اَللّهُمَّ اهْدِنِيْ فِيْمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِيْ فِيْمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِيْ فِيْمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِيْ فِيْمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِيْ شَرَّ مَا قَضَيْتَ فَإِنَّكَ تَقْضِيْ وَلاَ يُقْضى عَلَيْكَ إِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَّالَيْتَ وَلاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ لاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ (وَصَلَّى اللهُ عَلى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ)। উচ্চাৰণ:- আল্লা-হুম্মাহ্‌দিনী ফী মানহাদাইত। অআ-ফিনী ফীমান আ ফাইত। অতাওৱাল্লানী ফী মান তাওৱাল্লাইত। অবা-ৰিকলী ফী মা আ’ত্বাইত। অকি¸নী শাৰ্ৰমা ক্বাযাইত। ফাইন্নাকা তাক্বয্বি অলা ইউক্বয্বা আলাইক। ইন্নাহু লা য়্যাযিল্লু মাঁ উওয়া-লাইত। অলা য়্যাইযযু মান আ’-দাইত। তাবা-ৰাকতা ৰাব্বানা অতাআ’-লাইত। লা মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইক। (অ স্বাল্লাল্লাহু আলা নাবিয়িনা মুহাম্মাদ।) অর্থ - হে আল্লাহ! তুমি আমাক হিদায়াত কৰা; তেওঁলোকৰ দলভুক্ত কৰা যিসকলক তুমি হিদায়াত কৰিছা। আমাক নিৰাপদে ৰাখি তেওঁলোকৰ দলভুক্ত কৰা যিসকলক তুমি নিৰাপদে ৰাখিছা, আমাৰ সকলো কামৰ তত্তাৱধান কৰি আমাক তেওঁলোকৰ দলভুক্ত কৰা যাক তুমি তত্তাৱধান কৰিছা। তুমি আমাক যি দান কৰিছা তাতে বৰকত দিয়া। আমাৰ ভাগ্যত তুমি যি ফায়চালা কৰিছা তাৰ বেয়াৰ পৰা ৰক্ষা কৰা। কাৰণ তুমিই ফায়চালা কৰি থাকা আৰু তোমাৰ ওপৰত কাৰো ফায়চালা নচলে। নিশ্চয় তুমি যাক ভালোপোৱা সি লাঞ্জিত নহয় আৰু যাক বেয়া পোৱা সি সন্মানীত নহয়। তুমি বৰকতময় হে আমাৰ প্রভু আৰু তুমি সুমহান। তোমাৰ আযাবৰ পৰা তোমাৰ বাহিৰে কোনো আশ্রয়স্থল নাই। আৰু আমাৰ নবীৰ ওপৰত আল্লাহ ৰহ্‌মত বর্ষণ কৰা। (আবূদাঊদ, চুনান, তিৰমিজী, চুনান, নাসচঈ, চুনান, আহমাদ, মুছনাদ, বায়হাকী, ইবনে মাজাহ্‌, চুনান, মিশকাত ১২৭৩নং, ইর: ২/১৭২) প্রকাশ থাকে যে, দুআৰ শেষত দৰূদৰ উল্লেখ উক্ত হাদীছ সমূহত নাথাকিলেও চালাফাসকলে আমলৰ শেষত দৰূদ পঢ়াৰ কথা সমর্থন কৰে। আৰু সেই কাৰণেই দুআৰ শেষত ইয়াত দৰূদ যুক্ত কৰা হৈছে। (তামামুল মিন্নাহ্‌, আলবানী ২৪৩পৃ:, চিফাতু স্বালাতিন নাবী (ছাঃ), আলবানী)
-----------------------------------------------------------------------------------------------

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ
_____________/////////______________

বিতরের সঠিক দুয়া কুনুতটি শিখে নিন।

বিতর সালাতে দুআ কুনুতঃ

اَللَّهُمَّ اهْدِنِيْ فِيْمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِىْ فِيْمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِيْ فِيْمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لِيْ فِيْمَا أَعْطَيْتَ، وَقِنِيْ شَرَّ مَا قَضَيْتَ، فَإِنَّكَ تَقْضِىْ وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ، إنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَّالَيْتَ، وَ لاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ، تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ، وَصَلَّى اللهُ عَلَى النَّبِىِّ-

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাহ্দিনী ফীমান হাদায়িত , ওয়া ‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফাইত, ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইত, ওয়া বা-রিকলি ফীমা ‘আ‘ত্বাইত, ওয়া ক্বিনী শাররা মা ক্বাযাইত; ফাইন্নাকা তাক্বযী ওয়া লা ইয়ুক্বযা ‘আলাইক, ইন্নাহূ লা ইয়াযিল্লু মাঁও ওয়া-লাইত, ওয়া লা ইয়া‘ইয্ঝু মান্ ‘আ-দাইত, তাবা-রকতা রববানা ওয়া তা‘আ-লাইত, ওয়া সাল্লাল্লা-হু ‘আলান্ নাবী’।

অনুবাদ : হে আল্লাহ! তুমি যাদেরকে সুপথ দেখিয়েছ, আমাকে তাদের মধ্যে গণ্য করে সুপথ দেখাও। যাদেরকে তুমি মাফ করেছ, আমাকে তাদের মধ্যে গণ্য করে মাফ করে দাও। তুমি যাদের অভিভাবক হয়েছ, তাদের মধ্যে গণ্য করে আমার অভিভাবক হয়ে যাও। তুমি আমাকে যা দান করেছ, তাতে বরকত দাও। তুমি যে ফায়ছালা করে রেখেছ, তার অনিষ্ট হ’তে আমাকে বাঁচাও। কেননা তুমি সিদ্ধান্ত দিয়ে থাক, তোমার বিরুদ্ধে কেউ সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তুমি যার সাথে বন্ধুত্ব রাখ, সে কোনদিন অপমানিত হয় না। আর তুমি যার সাথে দুশমনী কর, সে কোনদিন সম্মানিত হ’তে পারে না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি বরকতময় ও সর্বোচ্চ। আল্লাহ তাঁর নবীর উপরে রহমত বর্ষণ করুন’।

সুনানু আরবা‘আহ, দারেমী, মিশকাত হা/১২৭৩ ‘বিতর’ অনুচ্ছেদ-৩৫; ইরওয়া হা/৪২৯, ২/১৭২।
---------
Firoz Sjr